Ads-Top-1
Ads-Top-2

শীতে পান চাষে ধ্স, কোটি টাকার ক্ষতি

বরিশাল প্রতিনিধি
২৪ জানুয়ারি ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 09:35:00 আপডেট: 06:02:47
শীতে পান চাষে ধ্স, কোটি টাকার ক্ষতি
ছবি: ব্রেকিংনিউজ

তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার পানচাষি এবং ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পরেছে। ঠান্ডাজনিত কারণে পান গাছে দাগ, শিকড় পচা ও পাতাঝরাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। এর ফলে পানের বাজারে ধ্স নেমেছে। কমেছে দাম। গত এক সপ্তাহের মধ্যেই পানচাষি এবং এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জানা গেছে, গৌরনদীতে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষের আবাদ হচ্ছে। এ এলাকার অধিকাংশ লোক পান চাষ করে জীবিকা নিবাহ করছেন। গত এক বছর থেকে বাজারে পানের দাম বেশি। কিন্তু আকস্মিক শৈত্যপ্রবাহের কারণে পানের পাতায় হলদে দাগ দেখা দিয়েছে। পচে যাচ্ছে পান পাতা। এক পোয়া (৩২ বিড়াই এক পোয়া এবং ৬৪ পানে এক বিড়া) বড় পানের দাম তিন হাজার থেকে নেমে আটশ’ টাকা, মধ্যম পান প্রতি পোয়া এক হাজার ছয়শ’ থেকে নেমে পাঁচশ’ এবং ছোট পান প্রতি পোয়া পাঁচশ’ থেকে নেমে তিনশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন মোকামে কম দামে পান কিনেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পানের পাতায় কালো দাগ থাকায় এবং পচে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানের মোকামে আরও কম দামে পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পান পরিবহন এবং বিক্রিতে দু’দিন সময় লাগে। আর এ সময়ের মধ্যে পান পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন বাজারে পানির দামে পান বিক্রি করছেন।

উপজেলার পানের বড় মোকাম নীলখোলা এলাহী পান ভান্ডারের মালিক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মুন্সী বলেন,  ‘সোমবার ২০ লাখ টাকার পান কিনি। সেদিনই তিনি ঢাকা, ফেনীসহ বিভিন্ন মোকামে পান সরবরাহ করেন। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে প্রচণ্ড ঠান্ডায় ব্যবসায় ধস নামছে। পানের পাতার ওপর কালো দাগ ও পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নাম মাত্র টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।’

একই ধরনের কথা বলেন, পান ব্যবসায়ী  আব্দুল হাকিম খান, রুবেল খান, আনিচ তালুকদার, স্বপন গাজী। 

নন্দনপট্রি গ্রামের পানচাষি আলমগীর কাজী, কটকস্থল গ্রামের আলাম মাঝি, স্বপন মাঝি, আলম হাওলাদারের বলেন, তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহের কারণে পানের পাতা লালচে হয়ে ঝড়ে পরে। বরজ থেকে যখন পরা পান সংগ্রহ করতে গেলে অন্য পারও ঝড়ে যায়। এসব পান বাজারজাত করার জন্য পান গাদি করার সময় দেখা যাচ্ছে পাতায় কালো দাগ। আবার পচা পাতাও পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে পানের বাজারে ধস নেমেছে। একবিঘা বরজ করতে খরচ হয় ছয় লাখ টাকা। এবার লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন ব্যয় উঠবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, গৌরনদী উপজেলায়  এ বছর ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে চাষিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

পানবরজ বর্তমানে যে সব রোগবালাইয়ে সক্রমিত হয়েছে সে ব্যাপারে আমাদের মাঠকর্মীরা প্রতিনিয়ত চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে এ ধরনের রোগবালাই হচ্ছে। আমরা আশা করছি, পানবরজের পরিচর্যা করলে এবং শীত কমে গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

ব্রেকিংনিউজ/ এমএইচ

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2