Ads-Top-1
Ads-Top-2

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ প্রযুক্তিকর্মী নেবে ট্রান্সফোটেক

ইমদাদুল হক
২৩ জানুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 12:27:00 আপডেট: 06:02:47

 আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ক্রিপ্টোগ্রাফি প্রযুক্তি নিয়ে ব্লক চেইনের তরঙ্গ ঢেউয়ে উন্মাতাল হবে বিশ্ব। ইতিমধ্যেই ডেটার বিকেন্দ্রীকরণে এই প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ডেটাকে দেশের বিভিন্ন পিসিতে রেখে তা একটি নেটওয়ার্ক চেইনের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার এই ব্লক চেইন প্রযুক্তি দেশে চালু করা গেলে কমবে হ্যাকিং ঝুঁকি। দেশের সাইবার আকাশ নিরাপদ রাখার পাশাপাশি বিশ্ব প্রযুক্তি ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকতে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করছে পেশাদার প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরিচালিত নিউইয়র্কভিত্তিক প্রযুক্তি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ট্রান্সফোটেক। বাংলাদেশে সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় বাংলাদেশীদের ঈর্ষণীয় সফলতা তুলে ধরে দেশের তরুণদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিকল্পনা তুলে ধরলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিকিউটিভ অফিস অব ইউনাইটেড স্টেটস অব প্রেসিডেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস অব ডিজিটাল সার্ভিসেস (ইউএসডিএস) এর কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ডাইরেক্টর শেখ গালিব রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইমদাদুল হক।  
 
ব্রেকিংনিউজ: ক্যারিয়ারের শুরুতে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে আপনার কাজের পরিসর সম্পর্কে যদি একটু জানান।
শেখ গালিব রহমান: ইউনাইটেড স্টেটস অব ইমিগ্রেশন সার্ভিসে ম্যানেজার হিসেবে আমি ১৪ জনের অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং দলের নেতৃত্ব দিয়েছি। সেখানে সফটওয়্যারের মান নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের মূল কাজ। ইউএস সিআইএ-র অভ্যন্তরীন বিভিন্ন সিস্টেম, ডাটাবেজের নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করতে আমার টিম কাজ করতো। অনলাইনে ভিসার আবেদনকারী কিংবা গ্রিন কার্ড ভিসা পেতে আগ্রহীরা যখন আই৯০ কার্ডের জন্য ইউএসসিআই-এর কাছে আবেদন করে তখন আমাদের এই সিস্টেম প্রসেস, সংরক্ষণের সম্মিলিত কাজ আমরা করে থাকি। এই সিস্টেমটি যেন প্রতি মুহূর্তে ঠিকঠাক কাজ করে তার দেখ ভাল করাইটাই ছিল আমার চ্যালেঞ্জ। এই প্রকল্পে প্রোগ্রামিং, ডিজাইনিং ও সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে আমার টিম দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছে। সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের প্রাযুক্তিক পরিবর্তনে ব্যবহারকারীদের স্বচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা ছিলো আমার কাজের আরেকটি বড় দায়িত্ব। এখন আমি এই টিম থেকে নির্বাহী অফিসে যোগ দিয়েছি। কিন্তু এখনও আমার দলটি এখনও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
 
ব্রেকিংনিউজ: ওই দলে আর কোনো বাংলাদেশী ছিল কি?
শেখ গালিব রহমান: যখনই আমি নিয়োগ প্রদানের সুযোগ পাই, সবার আগে আমি বাংলাদেশী খুঁজে বের করার চেষ্টা করি এবং তাঁদের নিয়োগের ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। সেই সুবাদে আমার দলের বেশির ভাগ সদস্যই ছিল বাংলাদেশী। ২০ জনের দলে ১৪ জনই ছিল বাংলাদেশী। এছাড়াও আমি যে কোম্পানির হয়ে কাজ করছি, সেই কোম্পানি থেকে প্রায় ৩৫ জনের মতো বাংলাদেশী কাজ করছেন।
 
ব্রেকিংনিউজ: যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলাদেশীরা কাজ করছেন। সেখানে প্রকৌশল ও সাইবার নিরাপত্তায় কতজন কাজ করছেন?
শেখ গালিব রহমান: যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন প্রজেক্টে এখন শত শত বাংলাদেশী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। শুধু হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে চারটি আলাদা আলাদা এজেন্সি আছে। এগুলো হলো ইউএসসিআইএস, আইইস, সিডিপি ও টিএসএ। এসব এজেন্সিতে এখন প্রচুর বাংলাদেশী আছেন যারা সার্থকতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আইটিতে কাজ করছেন। আমার জানা মতে, শুধু ইউএসস্আিই-এ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন বাংলাদেশী কাজ করছেন। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন মোহাম্মদ সাইদ। ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে লিড হিসেবে কাজ করছেন মোহাম্মদ আজাদ। এ ছাড়া তারিক আলম, মুকুল মোহসীন, তাজবীর আহমেদ, আবু মাহফুজ, আজাদ আহমেদ, কাজী রশীদ, মোহাম্মদ আলমসহ আরো অনেক তরুণ প্রজন্মের ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টরা সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্টে। 
 
ব্রেকিংনিউজ: এখন আপনি সেখানে কী করছেন?
শেখ গালিব রহমান: এখন আমি এক্সিকিউটিভ অফিস অব ইউনাইটেড স্টেটস অব প্রেসিডেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস অব ডিজিটাল সার্ভিসেস (ইউএসডিএস) এর কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ডাইরেক্টর হিসেবে কাজ করছি। এখানে আমার সঙ্গে ২ জন বাঙালি রয়েছে। আর বেশির ভাগই সাদা চামরার মানুষ। আমার অধীনে এই প্রকল্পে এখন ৭৬ জনের মতো প্রকৌশলী রয়েছেন। চারটি দলে ভাগ কয়ে এরা কাজ করছেন। এরা ইউএস ফেডারেল ডিপার্টমেন্টের কাজ দেখাশোনা করে। নিয়ম মেনে কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করে। চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর আমেরিকার নাগরিকরা যে স্বাস্থ্য সেবা পায় তা দিতে এই টিমটি নতুন একটি সেবা উদ্ভাবনে নিয়োজিত রয়েছে। 
 
ব্রেকিংনিউজ: আপনি আমেরিকায় ‘ট্রান্সফোটেক’ নামের একটি আইটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এর আদলে বাংলাদেশেও কী কিছু করতে চান?
শেখ গালিব রহমান: পাঁচ বছর আগে আমি নিউইয়র্কে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলি। বংলাদেশী কমিনিটির মেধাবীদের লক্ষ্য করে এই প্রতিষ্ঠানটি আমি গড়ে তুলেছিলাম। প্রযুক্তি সেবা প্রশিক্ষণে এটি এখন আমেরিকার সফল প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম। এরইমধ্যে এখান থেকে ইউএসসিআই, হোমল্যান্ড সিকিউরিটিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করছেন। এটি কেবল কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে থেমে থাকেনি, পেশাদারদের সমন্বয় ঘটিয়ে কমিউনিটির পার্সোনালিটি বিল্ডিংয়ে কাজ করে চলছে। ইউএস কর্পোরেট বাজারে বাংলাদেশীদের প্রাধান্য বাজায় রাখতে সক্ষম হওয়ার পর এবার আমরা বাংলাদেশেও একটি শাখা খুলতে যাচ্ছি। আশা করছি আগামী ছয় মাসে সফল হতে পারবো। ইউএস থেকে অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষকরাও এখানে প্রশিক্ষণ দেবে। প্রযুক্তি খাতে দেশে এখন পর্যন্ত নির্বাহী পদগুলোতে যেভাবে ঢালাও ভাবে বিদেশী নিয়োগ করা হচ্ছে তার ভার থেকে মুক্তি দিতেই আমরা এখানে এই পেশাদার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের গবেষণা বলছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে প্রযুক্তি বিশ্বে বাংলাদেশ ভারতের প্রতিযোগী হয়ে উঠবে।       


ব্রেকিংনিউজ: এই প্রতিষ্ঠান থেকে কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে? প্রশিক্ষণগ্রহণকারী কী দেশের বাইরেও কাজ করতে পারবে? 
শেখ গালিব রহমান: এখান থেকে সফটওয়্যার উন্নয়ন, সফটওয়্যারের মান যাচাই, ডেটা বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করবে ট্রান্সফোটেক। হাল নাগাদ রাখতে ছয় মাস পর পর আমরা নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সফটওয়্যার উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাভা ও পাইথন প্রোগ্রামের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। একইসঙ্গে সফটওয়্যারের মান নিরুপনের বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া হবে। এখান থেকে প্রশিক্ষণগ্রহণকারীদের দেশের পাশাপাশি আমেরিকার প্রযুক্তি খাতে চাকরি পাইয়ে দিতে ট্রান্সফোটেক কাজ করবে। আমেরিকা প্রতি বছর এইচ ওয়ান ভিসা দিয়ে যে ৬০ হাজার প্রকৌশলী নিচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুসংহত করতে কাজ করবে।
 
ব্রেকিংনিউজ: সাইবার আকাশের কোনা সীমানা নেই। এর নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে কোন বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন?
শেখ গালিব রহমান: বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপকভাবে যুগপৎ প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সবার আগে সংশ্লিষ্টদের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সাইবার নিরাপত্তা কমিউনিটি পুলিশিং বিভাগ। নতুন নতুন হ্যাকিং কৌশল বিষয়ে জানতে ও অভিজ্ঞ হতে কারিগরি সেমিনারের আয়োজন করতে হবে নিয়মিত। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে এটি অন্তর্ভূক্ত করা দরকার। 
 
ব্রেকিংনিউজ: বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাইবার নিরাপত্তা দিতে অ্যাপভিত্তিক কোনো সেবা দেয়ার পরিকল্পনা আছে কি?
শেখ গালিব রহমান: ব্যক্তিগত পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমরা দেখেছি ২০১৩ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তখন থেকেই ইন্টারনেটে ডেটার ব্যবহার বেড়েছে। বেড়েছে ঝুঁকিও। কিন্তু এন্টি ভাইরাস ব্যবহারের বিষয়ে তারা এখনও ততটাই অসচেতন। আর সচেতনতটা অ্যাপের মাধ্যমে গড়ে তুলতে আমরা চেষ্টা করবে। তাবে এটা সহজ নয়। একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আমরা শুরুতে লাইভ কনফারেন্স এবং প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেবো। 
 
ব্রেকিংনিউজ: ২৮ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালিত হতে যাচ্ছে ডেটা প্রাইভেসি ডে (তথ্য সুরক্ষা দিবস)। দিবসটি নিয়ে কিছু বলবেন?
শেখ গালিব রহমান:  প্রতি বছর এই দিনে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে বিশ্বে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন চালানো হয়। দিবসটির থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তথ্য সুরক্ষা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা’ (Respecting Privacy, Safeguarding Data and Enabling Trust) এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোর আলোকে দেশেও সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন দাবি রাখে। আর এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পৃক্ত করা সবচেয়ে জরুরী। কেননা এর ফলেই সচেতনতার ব্যাপ্তি বাড়বে।  
 
ব্রেকিংনিউজ: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যালায়েন্সের নেতৃত্বে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার সহজ কোনো পদ্ধতি কী দিতে সক্ষম হয়েছে?
শেখ গালিব রহমান: হ্যাঁ। গত বছর অ্যালায়েন্সের সভায় আমরা সাধারণের মধ্যে মাল্টিফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগ করপোরেশন পর্যায়ে চালু হয়েছে। 
 
ব্রেকিংনিউজ/ইহক/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2