Ads-Top-1
Ads-Top-2

রাস্তার পাশে সবজি চাষ, পুষ্টি-টাকা দুটোই আসে

মোশারফ হোসেন, শেরপুর
১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 03:39:00 আপডেট: 12:00:00
রাস্তার পাশে সবজি চাষ, পুষ্টি-টাকা দুটোই আসে

সীমান্তবর্তী শেরপুরের নকলা উপজেলার আবহাওয়া ও দোআঁশ মাটি শাকসবজি চাষের উপযোগী। সবজিভাণ্ডার খ্যাত এ উপজেলার রাস্তার পাশের পতিত জায়গায় শাকসবজি চাষ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক অর্থ ও মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উজ্জল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় সব রাস্তার পাশের পতিত জমিতে বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করে এমনটাই প্রমাণ করছেন শত শত কৃষক। 

কয়েক বছর আগেও রাস্তার পাশের পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে শাকসবজি চাষ করার কথা কেউ চিন্তাও করেনি। দুই বছর ধরে উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের ভূরদী ছাল্লাতুলা এলাকার হাবিবুর রহমানের দুই ছেলে বাংলায় অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী তমিজ উদ্দিন ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফয়সল তাদের বাড়ির কাছের গনপদ্দী হতে ছাল্লাতুলা চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার পাশে বিভিন্ন শাকসবজি লাগিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। 

তাদের দেখাদেখি রাস্তার পাশে জমি আছে এমন সবাই চাষ শুরু করেছেন। নামে মাত্র শ্রম ও অল্প ব্যয়ে চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট শাকসবজি বেচে প্রচুর টাকাও আয় করছেন তারা।



তমিজ উদ্দিন এবং ফয়সল জানান, দুই বছর ধরে রাস্তার ধারে বছরে দুইবার মৌসুমি শাকসবজি চাষ করে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্টগুলো বাজারে বেচে যে টাকা পান, তা দিয়েই দুই ভাইয়ের পড়ালেখার খরচ চলে। 

তাদের দেখাদেখি এলাকার সবাই রাস্তার পাশে শাকসবজি লাগিয়ে অতিরিক্ত পুষ্টি ও টাকা পাচ্ছেন। বানেশ্বরদী, পাঠাকাটা, চরঅষ্টধর, চন্দ্রকোণা, গৌড়দ্বার, উরফা, গনপদ্দী, নকলা, টালকী ইউনিয়নসহ পৌর এলাকার প্রায় সব রাস্তার পাশেই নিয়মিত শাকসবজি চাষ হচ্ছে। 

বানেশ্বরদীর মোকলেছুর রহমান, মনির, হেলাল, ঈসমাইল, কামাল, কমল, বেলাল, রকিব, দেলোয়ার, করিম, লিটন, পাঠাকাটার মিলন, চরঅষ্টধরের সামছুল, চন্দ্রকোণার আজিম ও মুক্তার, গৌড়দ্বারের সুমন, উরফার রেজাউল করিম হীরা ও মোশাররফ, গনপদ্দীর ছাইদুল ইসলাম, নকলার মোশারফ, লিটন, মোর্শেদ আলম, টালকী ইউনিয়নের বেলায়েত হোসেন এবং আক্তার, পৌরসভার হাফিজুর রহমান, লাভার শহিদুল ইসলাম ও জালালপুর এলাকার কামাল, কৃষ্ণপুরের ফোরকান, জগলু, মজনু, মোতালেব ও হাবিবুরের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারাও রাস্তার পাশে শাকসবজি চাষ করে পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকাও আয় করছেন।



উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, উপজেলায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার রাস্তার পাশে বছরে দুইবার শাকসবজি চাষ করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন জাতের কলাই চাষ করেও সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, নকলার মতো সারাদেশের রাস্তার পাশের পতিত জমিকে এভাবে কাজে লাগাতে পারলে পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আসতে পারে বিপুল সংখ্যক টাকা। তাছাড়া রাস্তার ভাঙন রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতো আছেই। 

ব্রেকিংনিউজ/জিয়া/পিআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2