Ads-Top-1
Ads-Top-2

বঞ্চিত ভূমিহীনদের ক্ষোভ

রাজাপুরে ঘর পেয়েছে বিত্তবানরা!

আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি
৯ জানুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 04:29:00 আপডেট: 12:00:00
রাজাপুরে ঘর পেয়েছে বিত্তবানরা!<br />

ঝালকাঠির রাজাপুরের মঠবাড়ি ইউনিয়নের মানকি সুন্দর গ্রামের আশ্রায়ন প্রকল্পের হতদরিদ্র ভূমিহীনদের জন্য সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ২৫টি বিল্ডিংয়ের বসতঘর বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবেদন করেও ঘর না পাওয়া বঞ্ছিত হতদরিদ্র ভূমিহীন ২০ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘর পাওয়া বিত্তবান, প্রভাবশালী ও চাকরিজীবী ১১ ব্যক্তির নামে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ইউএনও আফরোজা বেগম পারুলের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
 
অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র ৩০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে বিত্তবান, প্রভাবশালী ও চাকরিজীবীদের ঘর পাইয়ে দেয় এবং টাকা দিতে না পারায় প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো আশ্রায়ন প্রকল্পের সরকারি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
 
সম্প্রতি ওই আশ্রায়ন প্রকল্পের সামনে উন্মুক্তভাবে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ কমিটি ৮৬টি আবেদন যাচাই বাছাই করে ২৫ টি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করে। কিন্তু ঘরপ্রাপ্ত ২৫টি পরিবারের মধ্যে ১১টি পরিবার বিত্তবান, প্রভাবশালী ও চাকরিজীবী উল্লেখ করে ঘর না পাওয়া বঞ্চিত হতদরিদ্র ভূমিহীন ২০টি পরিবার বিষয়টি তদন্ত করে বিত্তবানদের নাম বাদ দিয়ে পুনরায় ঘর দাবি করে অভিযোগ দিয়েছেন।
 
সূত্র মতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ন বাস্তবায়ন সংস্থার বাস্তবায়নে যশোর সেনানিবাসের ১২ ফিল্ড আর্টিলারীর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রায় ৬৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ একর ২৫ শতাংশ জমিতে ৫টি ব্যারাকে ২৫টি ঘর নির্মাণ করেন। তিনটি কক্ষ বিশিষ্ট প্রতিটি ঘর একটি পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। রয়েছে আলাদা বাথরুম ও বিশুদ্ধ পানির গভীর নলকূপ।
 
আবেদন করেও আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর না পাওয়া পুখুরীজানা গ্রামের মৃত কাছেম খানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তিনি স্থানীয় মালেক হাওলাদারের বাড়ির জমিতে বাঁশ খুঁটির ভাঙ্গা একটি খুপড়ি ঘরে বসাবাস করছেন। বিষখালির নদী ভাঙনে গৃহহারা বিধবা বৃদ্ধ এ নারী মানুষের বাড়িতে কাজ করে দু’মুঠো খাবার যোগাড় করেন। সিডরের সময় ত্রাণের ঘর তার নামে বরাদ্দ হলেও নিজস্ব জমি না থাকায় সেই ঘর থেকেও তিনি বঞ্চিত হন। প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের দাপটে ঘর মেলেনি মানকি সুন্দরের আশ্রায়ন প্রকল্পেও।
 
ইউএনও কাছে দায়ের করা অভিযোগগুলো থেকে জানা গেছে, ওই আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পাওয়া উপজেলার মানকি গ্রামের মৃত মধু হাওলাদারের ছেলে অবিবাহিত মো. জলিলের বাড়িতে চৌচালা একটি বড় টিনের ঘর ও মাঠে দুই একর জমি থাকা সত্ত্বেও তার নামে এক পরিবারের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।

 
উপজেলার ডহরশংকর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের ব্যাপারীর ছেলে মোঃ আহসান হাবিবের বাড়িতে দ্বিতল টিনের বড় ঘর, পুকুরে সরকারিভাবে মাছ চাষ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা আছে, তিনি নিজে কোম্পানির গাড়ির ড্রাইভারের চাকরি করেন। এছাড়া তার দুই একর ধানি জমি থাকা স্বত্ত্বেও তার নামে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।
 
উত্তর পুখুরিজানা গ্রামের দেলোয়ার মোল্লার স্ত্রী কমলা বেগমের বাড়িতে ত্রাণের টিনের ঘর আছে, বসতবাড়ির জমি থাকা স্বত্ত্বেও তার নামে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।
 
পুখুরিজানা গ্রামের মৃত আমির হোসেন খানের ছেলে মিজানের বাড়িতে বড় টিনের ঘর, বসতবাড়ির জমি ও ঢাকার গাজীপুরে কেনা ৫ শতাংশ জমি থাকা স্বত্ত্বেও তার নামে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।
 
পুখুরিজানা গ্রামের মৃত মোফাজ্জেল হাওলাদারের ছেলে খলিলুর রহমানের ছেলের বাড়িতে ত্রাণের ঘর রয়েছে, বাড়ি ও মাঠে প্রায় ১ একর জমি, ৭/৮টি গরু আছে ও আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকা স্বত্ত্বেও তার নামে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।
 
উপজেলার মানকি গ্রামের শামসের আলীর ছেলে মশিউর রহমান মন্টুর বাড়িতে বড় ঘর, ২ একর জমি, পিতার বিল্ডিং এবং স্বামী-স্ত্রীর উভয়ে একটি সংস্থায় চাকরি করা সত্ত্বেও আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।
 
উত্তর পুখরিজানা গ্রামের আউয়াল হাওলাদারের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের ঝালকাঠি শহরে ব্যবসা রয়েছে, ১৫ শতাংশ জমির বাগান বাড়ি সত্ত্বেও আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।
 
একইভাবে জুলফিক্কার আলীর ছেলে মোস্তফার জমি রয়েছে, মোতালেব হাওলাদারের ছেলে রাসেলের জমি রয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক মৃত খলিলুর রহমানের স্ত্রী রুলিয়া বেগমসহ ১১ জন ব্যক্তি বিত্তবান হওয়া সত্ত্বেও আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।
 
মানকি সুন্দর আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল জানান, প্রাথমিকভাবে মনোনীত ২৫ টি পরিবারের মধ্যে ১১টি ধনী পরিবার ঘর পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঘর বঞ্চিত ২০ টি পরিবার। ধনী ব্যক্তিরা ঘর পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তা বাতিল করে প্রকৃত আশ্রয়হীন ও সহায় সম্ভবলহীনদেরই ঘর দেয়া হবে।
 
ব্রেকিংনিউজ/আমিনুল/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2