Ads-Top-1
Ads-Top-2

মৌ চাষে লাভ বেশি

মো. মোশারফ হোসেন, শেরপুর
২৫ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার
প্রকাশিত: 04:53:00 আপডেট: 12:00:00
মৌ চাষে লাভ বেশি

শেরপুর : বাংলাদেশের বন, ফুল, ফল ও ফসলের মাঠ ও আবহাওয়া মৌ চাষ শিল্পের জন্য খুবই উপযোগী বলে মনে করেন নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী খন্দকার পাড়া গ্রামের মেসার্স ফয়েজ মৌ খামারের স্বত্বাধিকারী ফয়জুর রহমান মাস্টার। 

তিনি ২০০০ সালে শেরপুর বিসিক থেকে মধু চাষের উপর এক মাসের প্রশিক্ষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন একজন মৌ শিল্পের মালিক। প্রশিক্ষণ শেষে বিসিক থেকে মৌ চাষের একটি নমুনা বক্স নিয়ে তিনি এ পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। 

বর্তমানে তিনি ‘মেসার্স ফয়েজ মৌ খামার’ নামে একটি মৌ চাষ প্রকল্পে প্রায় ২০০ মৌ-বক্স, মধু নিষ্কাশন যন্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে প্রতিবছর শতাধিক মণ মধু উৎপাদন করছেন। তার দেখাদেখি উপজেলার অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন। নতুন করে আগ্রহীদের মধ্যে নজরুল ইসলাম ও মনির উজ্জামান তারাও সফল মৌ-খামারীতে পরিণত হয়েছেন।

ফয়েজ জানান, মধু উৎপাদনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, লক্ষ লক্ষ মৌমাছি ও উৎপাদন কাজ দেখভাল করার জন্য নিয়োগ করেছেন পাঁচজন কর্মচারী। এদের সবার বেতন প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকার নিচে নয়। সরিষা, ইক্ষু, ধনিয়া, কালোজিরা, লিচু ও আম, জাম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের মৌসুমে মধু উৎপাদন করা যায়।



তিনি বলেন, ‘আমি খামারের কর্মচারী ও যন্ত্র সামগ্রী নিয়ে বছরের বিভিন্ন সময়ে গাজীপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, দিনাজপুর, ইশ্বরদী, পাবনা, জামালপুর ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্পিং করে মধু আহরণ করছি। এতে আমার খামার হতে প্রতি বছর শতাধিক মণ মধু উৎপাদন হচ্ছে।’

প্রতি কেজি মধু তিনি ৪০০ টাকা দরে স্থানীয় ভাবেই বিক্রি হয়ে যায়। ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে উৎপাদিত কিছু মধু ভারতেও রপ্তানি করছেন। 

মৌ খামারী ফয়েজ বলেন, ‘আমার এই প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহের পরও বর্তমানে প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। আমি এখন মধু চাষ করে সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বোধ করছি।’ 

তিনি আরও জানান, চলতি সরিষার মৌসুমে নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের সরিষা চাষ অধ্যুষিত এলাকায় উরফা গোরস্থান মাদরাসা মাঠে তার ক্যাম্প চলছে গত ১৫ দিন ধরে। 

ক্যাম্পটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, খোলা মাঠে ১৬০টি বক্স বসিয়ে রেখেছেন। মৌমাছির গুণগুণানিতে শুধু মাদরাসা মাঠ নয় পার্শ্ববর্তী বিশাল সরিষার মাঠে মৌ মৌ ঘ্রাণ। সপ্তাহে একদিন মধু নিষ্কাশন করা হয়, বক্সগুলো থেকে প্রথম পর্বে প্রায় ৮ মণ মধু সংগ্রহ করেছেন। যতদিন সরিষার ফুল থাকবে ততদিনই তার এ ক্যাম্প চলবে।



তিনি আশা করছেন এখান থেকে আরো ২ থেকে ৩ বার মধু নিষ্কাশন করা যাবে। তার খামার পরিচালনায় উল্লেখ্যযোগ্য কোনো প্রকার সরকারি সহায়তা নেই। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাই তার সম্বল, তদুপরি বিভিন্ন সময়ে হয়রানি ও কৃষকদের অসহযোগিতার মধু উৎপাদনে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। 

অনেক কৃষকদের ধারণা, মৌমাছিরা যে সরিষা মাঠ থেকে মধু আহরণ করে, সেখানে ফলন কম হয়। 

কিন্তু কৃষিবিদদের মতে, মৌমাছি ছোঁয়া ফুলে ফসলের উৎপাদন ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর জানান, কোনো ফসলের মাঠের কাছে মৌবাক্স থাকলে সহজে পরাগায়ন হয়। ফলে ফলন অনেক বেশি হয়। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কৃষি বিভাগের বিশেষ প্রচারণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুধিজন। 

১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে মৌ চাষী ফয়েজুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশ মৌ চাষের জন্য খুবই উর্বর স্থান। সরকারের বিনিয়োগ, পৃষ্ঠপোষকতা ও কর্মপরিকল্পনা থাকলে মধুতে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বহিঃবিশ্বে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। কেননা বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের উৎপাদিত খাঁটি মধুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। 

মৌ চাষের উন্নতির জন্য সরকারকে ধান, পাট ও ইক্ষু গবেষণার ন্যায় মধু গবেষণা কেন্দ্র বা ইন্সটিটিউট স্থাপন করলে কৃষকরা তথা মৌ চাষিরা অর্থিকভাবে লাভবান হবে বলেও মনে করছেন ফয়জুর রহমান । 

ব্রেকিংনিউজ/এসআর/পিআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2