Ads-Top-1
Ads-Top-2

সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারায় প্রভাবশালীরা

জেলা প্রতিনিধি,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
২৯ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার
প্রকাশিত: 09:35:00 আপডেট: 06:02:47
সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারায় প্রভাবশালীরা

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়েছে এলাকার প্রভাবশালীরা। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন উচ্চ মহলে অভিযোগ দায়ের করলেও এর কোনও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া সম্পত্তি আত্মসাৎকারী এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আউশকান্দি গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে আব্দুল মতলিব মিয়া ও তার লোকদের স্বত্ব ভূমি আউশকান্দি মৌজার অধীনের ১নং খতিয়ানের ৭৭১ দাগের ভূমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে আসছেন আব্দুল মতলিব গংদের লোকজন। বহুদিন যাবত একই উপজেলার বেতাপুর গ্রামের মৃত হাজি মনির উদ্দিনের ছেলে লন্ডন প্রবাসি বুলবুল আমীন ও তার ভাই বিএনপি নেতা সুহুল আমীন মিলে আব্দুল মতলিব মিয়া গংদের স্বত্ব ভূমি দখল করতে উঠে পড়ে লেগে আছে। এমনকি প্রভাবশালীরা আব্দুল মতলিব মিয়ার রোপণকৃত ফসলি জমির ধান কেটে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে এলাকা ছাড়া করার ষড়যন্ত্রও করা হচ্ছে। 

অপরদিকে দখলদার জামায়াত নেতা বুলবুল আমীন ও তার ভাই বিএনপি নেতা সুহুল আমীন দীর্ঘদিন যাবত উলুকান্দি মৌজা জেএল নং ১২৫ এর অধীনে থাকা সরকার বাহাদুরের ১নং খতিয়ানের খাস জমি দাগ নং ১,২,৩,ও ৪ দাগের প্রায় ৫ একর ভূমি দীর্ঘদিন যাবত জবর দখল করে আত্মসাত করে তাতে ব্রিক ফিল্ড ও বিল্ডিং নির্মাণ করে সরকার বাহাদুরের রাজস্ব নষ্ট করে আসছে। কিন্তু প্রকৃত ভিটে বাড়িহীন লোকেরা ওই ভূমি পাবার কথা। কিন্তু প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। তাছাড়া বুলবুল আমীন ও সুহুল আমীন ভাড়াটিয়া কুখ্যাত সন্ত্রাস প্রকৃতির লোক কুর্শি গ্রামের মৃত তরিক উল্লার ছেলে দিলকাছ মিয়া, রায় পুর গ্রামের মৃত ধন মিয়ার ছেলে ফুরুক মিয়া, সমসু মিয়া, রহমান মিয়ার ছেলে তোতা মিয়া ও সমসু মিয়ার ছেলে রাজন মিয়াসহ আরও ১৫-২০ জন নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র করছে কীভাবে আব্দুল মতলিব মিয়া গংদের স্বত্ব ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারে। বিগত দিনে জামায়াত নেতা বুলবুল আমীন ও বিএনপি নেতা সুহুল আমীনের হুকুমে ফুরুক মিয়া নামে এক লোক আব্দুল মতলিব মিয়া গংদের সাথে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ওই জামায়াত নেতা ও বিএনপি নেতার দুই বছরের সাজা হয়।

এছাড়া ২০০৭ সালের ৬ মার্চ আব্দুল মতলিব ও জুতি মিয়া নামে দুজন মিলে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় ওই অভিযোগে তাদের কিছুই হয়নি। সম্প্রতি দখলদার লন্ডন প্রবাসী বুলবুল আমীন ও তার ভাই বিএনপি নেতা সুহুল আমীন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে সরকার বাহাদুর ও আব্দুল মতলিব মিয়া গংদের ভূমি কীভাবে তাদের দখলে নিতে পারে। তাই তারা একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র তৈরি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। আবার আব্দুল মতলিব মিয়া গংদের একের পর এক হুমকি দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। 

এ দিকে ওই এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে অভিযুক্তরা প্রচার করে বেড়াচ্ছে যে, যতই সরকারের ঊর্ধ্বতনের কাছে অভিযোগ দেয়া হউক না কেন, টাকা থাকলে সব দফতরই ম্যানেজ করা সম্ভব।

অভিযোগকারী আব্দুল মতলিব মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত ওই ভূমি দখলদারদের নির্যাতন সহ্য করে আসছেন এবং সম্প্রতি তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাছাড়া বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানিসহ যে কোন ক্ষতি সাধন করতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। 

তাই তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ভূমিমন্ত্রী, চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), র‌্যাব-৯, জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) উপ-পরিচালক জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন হবিগঞ্জ, পুলিশ সুপার  হবিগঞ্জ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নবীগঞ্জ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীগঞ্জ থানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নবীগঞ্জ, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোপলার বাজার নবীগঞ্জ, চেয়ারম্যান আউশকান্দি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করেন। 

এরই প্রেক্ষিতে ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচা দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে অভিযোগকারী আব্দুল মতলিবকে অভিযোগ প্রাপ্তি স্বীকার  ডাকযোগে গত ২২ জুন প্রেরণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পর কোন প্রদক্ষেপ না নেয়ায় একদিকে চরম হতাশায় অভিযোগকারী আব্দুল মতলিব মিয়া ও তার লোকজন। 

ব্রেকিংনিউজ/এমএস

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2