শিরোনাম:

লামায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে ৪ হাজার পরিবার

শাহাব উদ্দিন, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : সোমবার, ১৯ জুন ২০১৭, ০৫:২৭
অ-অ+
লামায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে ৪ হাজার পরিবার
ছবি: ব্রেকিংনিউজ

বান্দরবান: জেলার লামায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় চার হাজার পরিবার। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারি বৃষ্টি পাত হচ্ছে। ফলে এ সকল ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় গুলোতে ধসের সৃষ্টি হলে ব্যাপক জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। 

২০১২ সালে লামার ফাইতং পাহাড় ধস ট্রাজেডির পর কিছু দিন প্রশাসনের তোড়-জোড় থাকলেও পরবর্তীতে তা থেমে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলেও কার্যত তা বাস্তবায়িত হয়নি। 
একই ভাবে চলতি মৌসুমেও লামায় পাহাড়ের পাদদেশ ও পাহাড় চুড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাসকারিদের সরিয়ে নেয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

লামা উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। এখানকার ছোট বড় পাহাড়ে জনবসতির ইতিহাস প্রায় অর্ধশত বছরের। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ পাহাড় চূড়া, পাদদেশ ও কোল ঘেঁষে বসবাস করে আসছে।  

সম্প্রতি বছরগুলোতে বর্ষা মৌসুম এলেই এ অঞ্চল পরিণত হয় আতঙ্কিত জনপদে। পরপর কয়েক বছরের পাহাড় ধসের কারণে পার্বত্য এ জনপদে বসবাসকারী আদিবাসীরা এখন পাহাড় দেখলে রীতিমত আঁতকে ওঠে।

২০১২ সালের ২৭ জুন রাতে প্রবল বর্ষণে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের রইম্যাখোলা, পোঁকখাইয়া ঝিরি, মগনামা পাড়া ও রূপসীপাড়া ইউনিয়নের সামাইছড়িতে পাহাড় ধসে মারা গেছে একই পরিবারের ১১ জনসহ ২৭ জন। এর আগে ২০০৯ সালের ৩০ আগস্ট আজিজনগর ও গজালিয়ায় একই পরিবারের ৬ জনসহ মারা যান ১১ জন। এ ছাড়া পাহাড় ধসে প্রতিবছরই অনেকে আহত হচ্ছেন। আবার বাড়ি ঘর ধ্বংস হচ্ছে। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্য এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় চূড়া কিংবা পাহাড়ের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে প্রায় ৪ হাজার পরিবারে ২০ হাজার মানুষ এখনও বসবাস করছে। পাহাড় ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে- আজিজ নগরের হরিনমারা, চিউরতলী, চিউনি পাড়া ও তেলুনিয়া, ফাইতং ইউনিয়নের রইম্যাখোলা, পোঁকখাইয়া ঝিরি, মগনামা পাড়া গজালিয়া, সরই, ফাসিয়াখালী এবং রুপসী পাড়ার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী বাসিন্দারা। এছাড়া লামা পৌর এলাকার হাসপাতাল পাড়া, চেয়ারম্যান পাড়া, নুনারবিল পাড়া, কুড়ালিয়ারটেক, টি এন্ড টি পাড়ায়ও লোকজন ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাস করছে। 

চলতি বর্ষা মৌসুমে ইতোমধ্যে দু’দফা ভারি বর্ষণ হয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও পাহাড় ধসের খবর পাওয়া না গেলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফাটল ধরা পাহাড়গুলো দু’দফা ভারি বর্ষণের ফলে নরম হয়ে আছে। আবারও ভারি বর্ষণ শুরু হলে এ সকল ফাটল ধরা পাহাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।  

এছাড়া অবাধে বৃক্ষ নিধন, পাহাড় খুঁড়ে পাথর উত্তোলন, অপরিকল্পিত জুম চাষ, পাহাড় কেটে ইটভাটা স্থাপনের কারণে পাহাড়গুলো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। যার ফলে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, তাদের ইউনিয়নে ঝুকিপূর্ণ বসবাসকারিদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার জন্য কোন আশ্রয় কেন্দ্র নেই। 

ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান মো. জালাল আহমেদ ব্রেকিংনিউজকে জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৫শ’ পরিবার এখনও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাস করছে। আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় ভারি বর্ষণ শুরু হলে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী স্কুল, মাদ্রাসায় আশ্রয় নিতে বলা হয়। কিন্তু অনেক এলাকায় বিদ্যালয় না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণদের প্রয়োজনীয় মুহুর্তে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়না। 

পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীরা জানিয়েছেন, মাথা গোঁজার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই তারা বসবাস করছেন। 

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খিনওয়ান নু ব্রেকিংনিউজকে জানান, ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারিদের তালিকা তৈরি করে অধিক ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদে সরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারিদের ভারি বর্ষণ শুরুর পূর্বেই নিরাপদে সরিয়ে নেয়া কিংবা অন্যত্র পূর্ণবাসন করা না হলে আবারও পাহাড় ধস ট্রাজেডির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। 

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এআর