শিরোনাম:

ঈদে নতুন টাকা সংগ্রহে ভিড়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : সোমবার, ১৯ জুন ২০১৭, ১১:৩৩
অ-অ+
ঈদে নতুন টাকা সংগ্রহে ভিড়
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

ঢাকা: টাকা পেলে খুশি হয় না এমন লোকের সন্ধান মেলা ভার। টাকা পেলেই খুশিতে মন ভরে যায়। হোক সেটা কাজের বিনিময়ে বা উপহার হিসেবে। আর সেই টাকার নোটগুলো যদি হয় নতুন কচকচে তাহলে তো খুশির অন্ত থাকে না। ঈদের খুশির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য নতুন পোশাকের সঙ্গে আরেকটি অনুষঙ্গ হচ্ছে টাকার নতুন নোট।  প্রিয়জন, বিশেষত শিশুদের মাঝে নতুন টাকা বিলি করার আনন্দটাই যেন ভিন্ন রকম। ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে অনেকেই ঈদের আগে নতুন টাকা সংগ্রহ করেন। 

এ কারণেই ঈদ সামনে রেখে নতুন টাকার জমজমাট ব্যবসাও দেখা যায় রাজধানীর বিশেষত মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকায়। 

 রাজুল হাওলাদার। ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। প্রতি ঈদে গ্রামের বাড়িতে যায় প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে। এবারও একই নিয়মে বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। প্রতি ঈদের বাড়িতে যাওয়ার আগে ছোটদের ঈদ সেলামি দেয়ার জন্য বেশ কিছু নতুন টাকার নোট নিয়ে যান। এবারও তিনি নতুন টাকার নোট নিতে চলে এসেছেন গুলিস্তানে। ৮০ টাকা বেশি দিয়ে পাঁচ টাকার নোট নিয়েছেন এক বান্ডিল (৫০০) টাকার। আর ৯০ টাকা বেশি দিয়ে কিনেছেন একশটি দশ টাকার নোট। 

মিরাজুলের মতো শত শত লোক নতুন টাকার নোট নিতে ভিড় করছেন এসব দোকান গুলোতে। ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত সেনাকল্যাণ ভবনের সামনে এব্ং গুলিস্তান পাতাল মার্কেটের উপরে বসেছে নোট টাকার দোকান। 

সোমবার (১৯ জুন) সকালে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় টাকা পরিবর্তনের জন্য দোকানগুলোতে জমজমাট ব্যবসা। 

এ সময় কথা হয় দোকানদার মিজানের সঙ্গে। তিনি জানান, অন্যান্য বছরের থেকে এ বছর বেচা-বিক্রি একটু কম। কি কারণে কম মনে হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একে তো বৃষ্টি, দ্বিতীয়ত লোকজনের আগ্রহ একটু কমই মনে হচ্ছে। 

মিজান বলেন, ‘অন্যান্য বছর এ সময় লোকজনকে ঠেলে সরানো যেত না। আর এ বছর এখনও কাস্টমার ডাকতে হচ্ছে।’ 



শুধু মিজান নয় অনেক নারীদেরও দেখা যাচ্ছে টাকা পরিবর্তনের ব্যবসা করছেন। তাদেরই একজন সবেরা খাতুন। তিনি ঈদ মৌসুমে এই টাকা পরিবর্তনের ব্যবসা করে তার সংসারের চালান। 

তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০টাকা অতিরিক্ত কখনো বা তার চেয়ে বেশি রেটেও বেচা-বিক্রি হয়। তবে ঈদ যতো ঘনিয়ে আসে নতুন টাকা বিক্রির চাহিদা ততো বেড়ে যায়।  

তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দিন আয়-রোজগার ৭০০-৮০০ টাকা, আবার কোনো কোনো দিন এক হাজার টাকাও রোজগার হয়।’ এ জন্য দু-তিনজন সঙ্গী নিয়ে কুলসুম নতুন টাকা সংগ্রহ করেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০তলা ভবনের নিচতলায় তিনটি কাউন্টারে ও মূল ভবনের নিচতলায় একটা কাউন্টারে দেয়া হয় নতুন টাকা। যেকোনো গ্রাহক তার টাকা বদলে যেকোনো অঙ্কের নোট নিতে পারেন প্রতিদিন। 

ব্রেকিংনিউজ/ এজেডখান/ এসএ