শিরোনাম:

ঈদ আনন্দটা ভাগাভাগি হয় কতটা?

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : সোমবার, ১৯ জুন ২০১৭, ০৯:৩৪
অ-অ+
ঈদ আনন্দটা ভাগাভাগি হয় কতটা?
ফাইল ফটো

ঢাকা : ঈদ মানেই আনন্দ। ধনী, গরিব, রাজা, প্রজা সবাই মিলে একসাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। ঈদের এই মহোৎসব সবার কাছে এক রকম অর্থ বহন করে না। সবসময়ই সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষদের থেকে অনেকটা ভিন্ন ভাবে ঈদ উদযাপিত দিনমজুর, কুলি, রাস্তার ভিক্ষুক কিংবা পথশিশুদের। ঈদটা যদিও সকল ভেদাভেদ ভুলে আনন্দ ভাগাভাগি করতে শিখায়, আমরা কিন্তু সেই শিক্ষায় এখনও পারদর্শী নই। 

রাজধানীর বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক কিংবা উত্তরার নর্থ টাওয়ারের বিপণি বিতানগুলোতে ঠিক যেমন ভিড় অভিজাত শ্রেণির মানুষগুলোর ঈদ কেনাকাটার জন্য, তেমনি ভিড় লক্ষ্য করা যায় হাইকোর্টের সামনে, কমলাপুর রেল স্টেশনে কিংবা গুলিস্তানের ফুটপাতগুলোর সামনেও। তবে তারা কিন্তু কেনাকাটার ভিড়ে ব্যস্ত নয়। হাত পেতে চেয়ে রয়েছেন সমাজের সেই বিত্তবানদের মুখপানে।

ছোট ছোট ৪-৫ বছরের ছেলে-মেয়ে গুলো অপলক দৃষ্টি নিয়ে ২টা টাকার জন্য হাতটা বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ব্যস্ততম এইসব জায়গাগুলোতে। কেউবা করুণা করে ২ টাকা দেয় আবার কেউবা খুব বিরক্ত হয়ে একটা গালি দেয়। এই ঈদ আনন্দে হয়তো অনেকেই ৫০ হাজার টাকাও খরচ করবে। তারপরেও এইসব অসহায় মানুষদের জন্য ৫০ টাকা নষ্ট করতে অনেকের খুব কষ্ট হয়। নষ্ট বললাম এই কারণে, টাকাটা তাদের কাছে খুব মুল্যবান মানবতা না। 

কার্জন হলের সামনে থেকে রিকশায় উঠলাম সূর্যসেন হলে আসবো। কথা হলো রিকশাচালক বাতেন মাহমুদের সাথে। বাড়ি কুড়িগ্রাম। রিকশা চালানোর পেশার কথা জানতে চাইলে বলেন, ‘মামা এলাকায় ক্ষেতে খামারে কাজ করি। সামনে ঈদতো, ভাবলাম ঢাকা গিয়ে যদি ঈদের আগের এই কিছু দিন রিকশা চালাই তাইলে মনে হয় ভাল করে ঈদটা করতে পারবো।’ 

আরও বলেন, ‘এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হইছিলাম। কিন্তু আব্বা একা সংসার চালাতে পারে না বলে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে যোগ দেই। তিন মাস কাজ করেও বেতন পাই নাই। পরে আবার বাড়ি চলে গেলাম। আব্বার সাথেই ক্ষেতে খামারে কাজ করি। ঈদের আগে যদি ভাল একটা টাকা কামাইতে পারি তাইলে আব্বার জন্য একটা পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি কিনবো। আর মার জন্য একটা কাপড় কিনবো। বড় ভাইয়ের ২টা ছেলে মেয়ে আছে, তাদের জন্যও কিছু কিনবো। দোয়া কইরেন মামা।’ 

এই রিকশাচালক বাতেনের জন্যই হয়তো ঈদ আনন্দটা ভাগাভাগির। পরিবারের মুখে একবিন্দু হাসি ফোটানোর জন্য খেটে যাচ্ছেন দিনভর। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে কথা হলো ঢাকা ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার সাথে। ২ হাতে আনুমানিক ৭-৮ টা শপিং ব্যাগ হবে। শপিং শেষ করে হয়তো বাসার দিকে যাচ্ছিলো। পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলাম অসহায় পথশিশুদের জন্য কি কিছু চিন্তা করেছেন?  

‘এটা একটা ভাল কথা বলেছেন। আসলে ভাই খুব ব্যস্ত থাকিতো এতো কিছু নিয়ে চিন্তা করি নাই। দেখি ঈদের আগে কিছু একটা করা যায় কিনা। আমাদের সবারই উচিত তাদের জন্য কিছু একটা করা। তারাও যাতে ভাল করে ঈদ করতে পারে।’  

সবাই হয়তো এই ব্যাংকারের মতো চিন্তা করতেছে তাদের জন্য কিছু করা যায় কিনা। কয়জনের চিন্তা যে বাস্তবায়ন হয় তা হয়তো ঈদের দিনেই বোঝা যায়। 

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ / এমআর