শিরোনাম:

অনলাইনে ঈদ কেনাকাটার ধুম

আব্দুল জাব্বার খান, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

প্রকাশিত : রবিবার, ১৮ জুন ২০১৭, ০৩:০৪
অ-অ+
অনলাইনে ঈদ কেনাকাটার ধুম

ঢাকা: মাত্র সপ্তাহখানেক বাদেই ঈদুল ফিতর। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার রোজা শেষে খুশির বারতা নিয়ে ঘরে ঘরে আসে ঈদ। তবে ঈদের প্রস্তুতিটা কিন্তু শুরু হয় একটু আগেভাগেই। বিশেষত যাদের পকেট ভারি তারা তো পারলে মাসখানেক আগেও ঈদ শপিং করে ফেলেন। মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষেরা একটু দেরিতে হলেও ভুলেন না ঈদকে ঘিরে কেনাকাটায়। 

আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে প্রযুক্তি সুবিধাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাচ্ছে মানুষ। এবারের ঈদেও সে সুবিধাই দিচ্ছে দেশের অনলাইন শপিংমলগুলো। কেনাকাটায় এরই মধ্যে জমে উঠেছে অনলাইন শপগুলো।  দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা ও যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশের অনলাইন বাজার। নিত্যনতুন পণ্যের সমাহার, বিভিন্ন ছাড় ও উপহারের কমতি নেই ভার্চুয়াল এ বাজারে। ঝড়বৃষ্টির বালাই নেই। ঘরে বসেই কেনাকাটা সেরে ফেলছেন অনেকেই।

রঙ-বেরঙ্গের পোশাক থেকে শুরু করে ঘরের আসবাবপত্র, নারীদের সাজসজ্জার বিষয়সহ রোদচশমা, ওয়ালেট সবই আছে অনলাইন শপে। এছাড়া বিভিন্ন রকম মজার মজার ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। চাল-ডাল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও আছে অনলাইন কেনাকাটার তালিকায়।

কাজের ব্যস্ততার কারণে যারা মার্কেটে যেতে পারে না বা মার্কেটের গিয়েও পছন্দের পণ্য মিলাতে পারেন না তারা অনলাইনে অর্ডার করে বাড়িতে বসেই পেয়ে যান পছন্দের জিনিসটি। 

তাদেরই একজন সামিরা আফরোজ। একটি বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকুরি করেন। থাকেন রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায়। প্রবল ইচ্ছে থাকার পরও কর্মব্যস্ততার কারণে ঈদ মার্কেটে যেতে পারছেন না। তাই বলে থেমে নেই তার ঈদ শপিং। অনলাইনে কেনাকাটা করছেন তিনি। 

অনলাইনের কেনাকাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে অফিসে কাজের চাপ অনেক বেশি। তাই মার্কেটে যেতে পারি না। অনলাইনে এখন পছন্দসহ সবই পাওয়া যায়। এই কারণে অনলাইনে ক্রয় করি।’ 

আফরোজার মত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আইরিন জাহান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘অনলাইনের নিয়মিত গ্রাহক আমি। ভিড় এড়িয়ে ঈদের কেনাকাটা অনেক বেশি সহজ করে দিয়েছে অনলাইন সুবিধা। বাড়ির লোকজনের জন্যও কেনাকাটা করেছি।’

বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট ছাড়াও দেশের অনেক নামি ব্র্যান্ডের ই-শপ রয়েছে। আপনজোন ডটকম, এসো ডটকম, আজকেরডিল, চমক অললাইন শপিং, মাস্তি অনলাইন, টাহুর, ওম্যান শপ, হাট বাজার ডটকমসহ অসংখ্য অনলাইন শপ রয়েছে। অনলাইনের সুবিধা হলো ‘ক্যাশ-অন ডেলিভারি’। মানে পণ্য হাতে পেয়ে তারপর এর দাম পরিশোধ করা যায়।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে তরুণরাই অনলাইন বাজারের প্রধান ক্রেতা, তাই এখানে দেখা মিলছে তরুণদের নজরকাড়া রকমারি সব পণ্যের। পোশাক থেকে গয়না, প্রসাধনী থেকে নিত্যপণ্য, কী নেই অনলাইনে। এক কিকেই তা হাজির হবে আপনার দোরগোড়ায়। ই-কমার্সের মাধ্যমে অল্প পুঁজিতে নিজেদের সৃজনশীলতা দেখানো যাচ্ছে। তাই তরুণেরা পোশাকে নকশা করছেন। এরপর সেটা অনলাইন দোকানে তুলে পৌঁছে দিচ্ছেন দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের কাছে।

স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এখন ঘরে বসেই ঈদের কেনাকাটা করছেন অনেকেই। ঈদের কেনাবেচা সম্পর্কে জানতে চাইলে চমক অনলাইন শপের স্বত্বাধিকারী মাসুদ আলম ব্রেকিংনিউজকে জানান, অনলাইনের তাদের বেচা বিক্রি বেশ ভাল। ঈদকে কেন্দ্র করে কিছুটা হলেও বিক্রি বেড়েছে। তবে মাঝে মাঝে কিছু বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয়েছে। যেমন কিছু দিন আগে রামপুরা বনশ্রী এলাকা থেকে তাদের এক সেলসম্যানের কাছ থেকে কিছু মালপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়া কোনও সমস্যা হচ্ছে না। সার্বিকভাবে ভালই সাড়া পাচ্ছেন বলেও তিনি জানান। এবারের ঈদে শার্ট আর পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে ।

আব্দুল খালেক রুবেল মাস্তি অনলাইন শপে কাজ করেন। তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে এবারের ঈদে বেশ ভালই বিক্রি হচ্ছে। ঈদের জন্য কিছুটা বিক্রির বেড়েছে।’

কয়েক বছর আগেও ই-কমার্স ছিল নেহাত কম। এখন দিন যাচ্ছে আর বাড়ছে ই-কমার্সের চাহিদা ও বাজার। রোদ-বৃষ্টি গায়ে না মেখে ঝামেলা ছাড়াই কেনাকাটা করা যায় বলে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন অনলাইন শপ।

ব্রেকিংনিউজ/ এজেডখান/ এমআর