শিরোনাম:

​জাবির ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

জাবি করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শনিবার, ১৭ জুন ২০১৭, ০৮:৫৬
অ-অ+
​জাবির ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ২৩২ কোটি ৫ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ জুন) বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ৩৬তম এ অধিবেশনে সিনেট চেয়ারম্যান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে শুরু হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের এ বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর বাজেটের ওপর আলোচনা করেন সিনেট সদস্যরা। আলোচনা শেষে উপাচার্য বাজেট পাসের প্রস্তাব করলে সকলের সম্মতিক্রমে এ বাজেট পাস হয়। 

এর আগে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। পরে কোরআন ও গীতা থেকে পাঠ করা হয়। এসময় উপাচার্য সম্প্রতি দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র-কর্মচারীদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব করেন। এসময় তাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য উত্থাপিত (২৩২ কোটি ৫ লাখ) এই বাজেটে যে সকল খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পরিবহন অফিসের উৎকালীন ভাতা খাতে ৭৯.৫০ লক্ষ টাকা। সেন্টার অফ এক্সসেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং এর জন্য ১০ লক্ষ টাকা। বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন ইন্সটিটিউট এর জন্য ২.৫০ লক্ষ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা প্রকল্পের বরাদ্দ ৭৫ লক্ষ টাকা। খেলাধুলা খাতে ৯ লক্ষ টাকা। খাজনা ও কর খাতে ৭৩ লক্ষ টাকা। ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি খাতে ৯৫ লক্ষ টাকা। পরীক্ষকদের ভ্রমণ খাতে ২৩ লক্ষ টাকা।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের মুদ্রণ ও মনিহারী খাতে ১৬.৫০ লক্ষ টাকা। কম্পট্রোলার অফিসের সফটওয়ার ও কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষন খাতে ৩ লক্ষ টাকা। আসবাবপত্র ক্রয় ৫০ লক্ষ টাকা। অফিস সরঞ্জাম ক্রয় খাতে ৫০ লক্ষ টাকা। টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ক্রয় খাতে ৫ লক্ষ টাকা। গাড়ির জ্বালানি খাতে ১৮০ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন হলের জন্য মঞ্জুরি খাতে ৪১ লক্ষ টাকা। পূর্ত বিভাগের আবাসিক ভবন ও অফিস ভবন মেরামত, পানির পাম্প ও বৈদ্যুতিক সংরক্ষণ এবং রাস্তাঘাট মেরামত খাতে ১১৫ লক্ষ, ৬১.২০ লক্ষ এবং ৫০ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন সভার সিটিং অ্যালাউন্স খাতে ৩৮ লক্ষ টাকা।

এছাড়াও ২০১৭-১৮ সনের মূল বাজেটে যে সকল খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে- অনুষদ, বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের শিক্ষা সরঞ্জাম খাতে ১৭ লক্ষ টাকা। বিভাগ সমূহের ফিল্ড ওয়ার্ক খাতে মোট ৩.৭৫ লক্ষ টাকা। অনুষদ, বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের সেমিনার অনুষ্ঠান খাতে মোট ১.২৫ লক্ষ টাকা, সাময়িকী প্রকাশনা খাতে ২ লক্ষ টাকা। চিকিৎসা কেন্দ্রের ঔষধপত্র ও ড্রেসিং দ্রব্যাদি ক্রয়, হাসপাতালকরণ ও ডাক্তারি যন্ত্রপাতি মেরামত খাতের বরাদ্দ যথাক্রম ১৮.৭৫ লক্ষ, ০.৫০ লক্ষ এবং ০.৩০ লক্ষ টাকা।

সকল আবাসিক হলে বাগান রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ০.৮০ লক্ষ টাকা। সকল অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হল কন্টিনজেন্সি খাতে ৩.০৫ লক্ষ টাকা। গ্রন্থাগার অফিসের জার্নালের চাঁদা খাতে ২ লক্ষ টাকা। পূর্ত বিভাগের আবাসিক ভবন ও অফিস ভবন মেরামত ও রাস্তাঘাট মেরামত খাতে যথাক্রমে ১৭০ লক্ষ, ৫০ লক্ষ টাকা। আসবাবপত্র ক্রয় খাতে ১৫০ লক্ষ টাকা। অসিস সরঞ্জাম ক্রয় খাতে ৭৫ লক্ষ টাকা। কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ ক্রয় খাতে ৫৫ লক্ষ টাকা। যানবাহন ক্রয় বদল খাতে ১৯৭ লক্ষ টাকা।

বাজেটের ঘাটতির পরিমাণ ১ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা ও মোট ঘাটতির পরিমাণ ৩২ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে।

এসময় সভাপতির ভাষণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, অসৎ মানুষের দ্বারা সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, নীতিহীনতার প্রতি আসক্তি- আমাদেরকে এক অন্ধকারের দিকে ধাবিত করছে। এ থেকে দেশ, জাতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে হবে। এসব অশুভ ব্যুহ ভেদ করতে হলে শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি চর্চায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে। 

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে উপাচার্য বলেন, কর্মজীবনে প্রায়শই শিক্ষা ও দক্ষতার যথাযথ মূল্য দেয়া হয় না। এ জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা বাজারমুখী শিক্ষার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠে। বাজারমুখী শিক্ষার আগে শিক্ষার্থীকে মানবিক গুণ, নন্দনতাত্ত্বিক চেতনা, মানবজাতির বৈজ্ঞানিক দর্শনের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এ রকম সমৃদ্ধ ছাত্র-ছাত্রী তৈরির জন্য আমাদের শ্রম দিতে হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্ধারিতভাবে কোনো ক্লাশ বন্ধ ছিলো না। এই সাফল্যের অংশীদার ছাত্র শিক্ষক নির্বিশেষে আপনারা সকলে। 

উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেশনজ্যাম কমিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে অতিদ্রুত সেশনজ্যাম কমে এসেছে। 

অধিবেশনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন। অধিবেশন পরিচালনা করেন সিনেটের সচিব রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক। 

উল্লেখ্য, গত অর্থবছর (২০১৬-১৭) মোট বাজেট ছিল ১৯৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত বরাদ্দ দেয়া হয় ২০৯ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। 

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ