শিরোনাম:

পারদ দূষণের বড় ঝুঁকি বহন করবে রামপাল

পরিবেশ ডেস্ক,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শনিবার, ১৭ জুন ২০১৭, ০৪:২৩
অ-অ+
পারদ দূষণের বড় ঝুঁকি বহন করবে রামপাল

ঢাকা : সুন্দরবন সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেছেন, প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা প্রজ্জ্বলনের কারণে প্রতি বছর ২২৩ কেজি পারদ নির্গত হবে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আশপাশের অঞ্চলে পারদ দূষণের বড় ঝুঁকি বহন করবে। এই ঝুঁকি নদীপথ ও বায়ুপথে জলজ ও বনজ পরিবেশ, যেখানে পশুর নদী ও গাঘেঁষা সুন্দরবনকে আক্রান্ত করবে।

শনিবার (১৭ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

‘পারদের নিঃসরণ, বায়ুমণ্ডলে সঞ্চয়ন ও প্রতিবেশ দূষণ : সুন্দরবনের জীব ভৌগোলিক বলয়ে রামপাল থেকে নির্গত পারদের প্রভাব’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনেরর আয়োজন করে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিরাকাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক চার্লস টি ড্রিসকল এটি গবেষণা করেছেন।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম আরো বলেন, এ অঞ্চলের বন্য প্রাণীকূল যারা মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে; যেমন পাখি, সরীসৃপ ও বাঘ। এসব প্রাণীকে পারদ দূষণের ঝুঁকিতে ফেলবে। একই কারণে এখানে বসবাসকারী মানুষ যারা মাছ খেয়ে থাকে, তাদেরও পারদ দূষণের আওতায় নিয়ে আসবে।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিশ্বের উন্নত দেশে পারদ নির্গতকারী প্রতিষ্ঠানে যত উন্নতমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হোক না কেন, তা প্রতি বছর ২২৩ কেজির অর্ধেক নির্গতই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অথচ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারদ নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে অতটা উন্নতমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে না। তাই এর প্রভাব মানুষের ওপর প্রকটভাবে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাপা ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের ডা. নাজমুন নাহার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসাইন প্রমুখ।


ব্রেকিংনিউজ/এম হায়দার