শিরোনাম:

পাঠাভ্যাসে পুরস্কার পেল ১৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শনিবার, ১৭ জুন ২০১৭, ০৩:১২
অ-অ+
পাঠাভ্যাসে পুরস্কার পেল ১৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ছবি: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

রাজশাহী: রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ২৬ উপজেলার ১৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির সংগঠককে সেরা সংগঠক সম্মাননা পুরস্কার-২০১৬ প্রদান করা হয়েছে। 

শনিবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী নগরীর নানকিং দরবার হলে ‘সেরা সংগঠক সম্মাননা পুরস্কার’ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সেকায়েপ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. মাহামুদ-উল-হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব খোন্দকার আসাদুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ, রাজশাহী অঞ্চলের মাউশির পরিচালক প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান সরকার, প্রকল্প কর্মকর্তা ফারজানা রসুল, জেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম।
 
শুভেচ্ছা বক্তব্যে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসুচি কো-টিম লিডার শরিফ মাসুদ বলেন, ২০১৭ সালে সারা দেশে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির ২১ লাখ ৭০ হাজার পাঠক হয়েছে। ২০৪১ সালের যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখছেন সেই উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষারও উন্নতি প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দসহ সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং সেরা সংগঠকদের অভিনন্দন জানান।

এরপর সেরা সংগঠকদের মধ্য থেকে দুই জন সেরা সংগঠক পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা বর্ণনা করেন। বই পড়ার অভ্যাসের কারণে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে সংগঠকরা এই কার্যক্রমকে সারা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানান। মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের মতো মাদরাসাগুলোতে লাইব্রেরিয়ান পদ সৃষ্টি করার জন্য সরকারের নিকট তারা আবেদন তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথি বলেন, সেকায়েপ প্রকল্পের একটি অন্যতম উদ্যোগ বইপড়া কর্মসূচি। মানুষকে বড় হতে হলে তাকে বই পড়তেই হবে। বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্দেশ্য জীবনকে আলোকিত ও বিকশিত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি উন্নয়নের জন্য আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য সেকায়েপ প্রকল্প নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের ২৫০টি উপজেলার প্রায় ১২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বইপড়া কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেরা সংগঠক সম্মননা পুরস্কার প্রাপ্ত সংগঠদের এই অর্জনের জন্য তিনি উপস্থিত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

সভাপতির বক্তব্যে খোন্দকার আসাদুজ্জামান বলেন, বইপড়া মানুষের ভাল অভ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম। বর্তমান সৃজনশীল পদ্ধতিতে ভাল করতে এবং নিজেকে বড় হতে হলে তাকে বই পড়তেই হবে। সকল প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহকারী লাইব্রেরিয়ানদের প্রতি আহবান জানান। এবং বইপড়ার পাশাপাশি বই কেনার প্রতিও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে পঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির সংগঠকদের সমন্বয়ে ‘সেরা সংগঠক সম্মাননা পুরস্কার-২০১৬ প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। সারা দেশে মোট ১১৮৪ জন সেরা সংগঠক সম্মাননা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি কার্যক্রম সচল ও নিয়মিত রাখার জন্য বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কাজ করছে। 

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের তত্বাবধানে এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বই পড়ানোর কাজে সংগঠক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক অথবা লাইব্রেরিয়ান। প্রত্যেক বছর লাইব্রেরিয়ানদের কার্যক্রমে গতিশীলতা ও উদ্দীপনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্প থেকে প্রতিটি উপজেলার ১০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিয়ান/ সংগঠকদের সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এমএইচ