শিরোনাম:

আম রফতানিতে কৃষকের ২৮ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা

সরকার দুলাল মাহবুব, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শনিবার, ১৭ জুন ২০১৭, ০১:৪৬
অ-অ+
আম রফতানিতে কৃষকের ২৮ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা
ছবি: ব্রেকিংনিউজ

রাজশাহী: কেয়ারেন্টাইনের অযাচিত হস্তক্ষেপে রাজশাহীর আম চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। ওই প্রতিষ্ঠানের আম রফতানিতে বাধায় কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে চাষিরা। ব্যাপক সময় অতিবাহিত হওয়ায় গাছেই নষ্ট হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং-এর এসব আম।
 
আম রফতানিকারক ও চাষিরা বলছেন রাজশাহীর আমের সুনাম ক্ষুন্ন করতেই একটি সিন্ডিকেট উঠেপড়ে লেগেছে। রাজশাহীর আম রফতানির দাবিতে রাজশাহী এগ্রো ফ্রুট প্রোডিউসার সোসাইটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। 
  
শুক্রবারের এ সম্মেলন থেকে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে রাজশাহীর সুস্বাদু আম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করে লাভের মুখ দেখছিলেন রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা। এবারও রাজশাহী থেকে দুই হাজার মেট্রিক টন আম রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শুরুতেই বিপাকে পড়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ফলে সেই লক্ষ্যমাত্রা ৩০ শতাংশও এবার অর্জিত হবে না কোয়ারেন্টাইনের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে। এতে কৃষকদের ২৮ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হবে।

রাজশাহী অঞ্চলের আম উৎপাদক ও রফতানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, বিদেশে রফতানির জন্য প্যাকেটিংয়ের আগে কেয়ারেন্টাইন স্টেশন কর্তৃক ছাড়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও প্রায় ৭০ শতাংশ আমকেই রফতানি অযোগ্য বলে ঘোষণা দিচ্ছে তারা। এটা উদ্দেশ্য প্রনোদিত, অনৈতিক ও অযাচিত হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ চাষিদের।

জেলার পবা উপজেলার আমচাষি মাহবুবুর রহমান দুলাল জানান, তিনি এবারে হিমসাগর, ন্যাংড়া, ফজলি ও আশিনা আমে প্রায় ৫ হাজার ব্যাগিং করেছেন। রফতারিকারক প্রতিষ্ঠান গত মাসের ২৮ তারিখ থেকে আম নেয়ার কথা থাকলেও জুন মাসের ১২ তারিখ থেকে শুরু করে। এতে প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ আমই রফতানির অযোগ্য হয়ে পড়ে। এরপর মড়ার ওপর খাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে কোয়ারান্টাইনের হস্তক্ষেপ। তিনি আরও জানান, ওই কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। নতুবা রাজশাহীর আম রফতানিতে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন। 

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জানা লাগবে আমের বয়স প্রায় ৪৫-৫৫ তিন পরে ফ্রুট ব্যাগিং করে থাকি। এর আগে বাতাস ও ঝড়ে আম ডালে পাতায় আছাড় খায়। এটা কোন রোগও নয়। আবার আমের কোয়ালিটিও নষ্ট হয় না। আম কোনটা রোগাক্রান্ত আর কোনটা ডালে ও পাতায় লেগে দাগ হওয়া এর পার্থক্য ওই প্রতিষ্ঠানকে বুঝতে হবে। আমরা বাগান থেকে রোগমুক্ত সতেজ এবং রফতানি যোগ্য আমই পাঠাচ্ছি। কিন্তু  পরীক্ষার নামে হয়রানি করা হচ্ছে। লোকসানে ফেলা হচ্ছে আমাদের। এমন হতে থাকলে আগামী ফুড ব্যাগিং-এ চাষিরা আগ্রহ হারাবে এবং সরকার রাজস্ব হারাবে।
 
কৃষকরা আরও জানিয়েছেন, রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন করতে হয় বিশেষ প্রক্রিয়ায়। এতে খরচ বেশি পড়ে। কর্মচারীদের অনেক প্রশিক্ষণ দিতে হয়। কৃষকদের এবারের উৎপাদিত আম দেখে খুশি রফতানিকারকরা। এছাড়া আমদানিকারকরাও আগ্রহী। কিন্তু মাঝখান থেকে কোয়ারান্টাইন বাগড়া দিচ্ছে।

রাজশাহীর শতাধিক আম চাষি প্রায় ৩৫ লাখ আমে ফ্রুট ব্যাগিং করেছে। সেখান থেকে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদিত হয়েছে। অথচ ২ হাজার মেট্রিকটন আম রফতানির জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ৭০ শতাংশ আম বাতিল করা হলে কৃষকদের প্রায় ২৮ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হবে। যারা ঋণ নিয়ে আম চাষ করেছে তাদের পথে বসতে হবে বলে জানান চাষিরা।

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দীন ব্রেকিংনিউজকে জানান, কোয়ারেন্টাইন অফিসের দায়িত্ব হচ্ছে আমে তিন ধরনের পোকা আছে কী না সেটা যাচাই করে সনদ দেয়া। রাজশাহী অঞ্চলের আমে ওই তিনটি পোকার উপস্থিতি নেই। ফলে সহজেই ছাড়পত্র পাওয়ার কথা। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন আমের সাইজ, দাগ আছে কি না এসব বিবেচনা করে ছাড়পত্র দিচ্ছে না। এটা তাদের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে না।

রফতানিকারকরা জানান, গতবার ব্যাগিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত প্রায় শতভাগ আম রফতানির অনুমতি পেয়েছিলেন তারা। এবারও ব্যাগিং পদ্ধতিতেই রফতানির জন্য আম উৎপাদন করেছেন কৃষকরা। কিন্তু অহেতুক প্রায় ৭০ শতাংশ আম বাতিল করছে।

রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘রাজশাহীর আম কোয়ারেন্টাইনমুক্ত হলেও অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। আম রফতানিতে অসাধু তৎপরতা শুরু হয়েছে।’ 
 
সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান জানান, রাজশাহীর আমের সুনাম নষ্ট করতে এবং চাষিদের লোকসানের মুখে ফেলতেই এমন অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। তারা যাতে রফতানি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ না হয় এ জন্য তিনি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কোয়ারেন্টাইন উইংয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন খান জানান, নিয়ম মেনে যাচাই-বাছাই করেই আম বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। গত বছর ২৮৮ মেট্রিক টন আম রফতানি হয়েছিল। চলতি বছর কত মেট্রিক টন হবে সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। 

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এসডিএম/ এআর