শিরোনাম:

দার্জিলিংয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন : বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

ভারত ডেস্ক,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০১৭, ০৮:২৭
অ-অ+
দার্জিলিংয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন : বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

ঢাকা : গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে ভারতের দার্জিলিংয়ে অনির্দিষ্টকালের হরতাল চলাকালে কালিম্পংয়ের পেডং পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সকালে ‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’র সদস্যরা এই আগুন ধরিয়ে দেয়।

‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’র ডাকে গত সোমবার থেকে  দার্জিলিংয়ে অনির্দিষ্টকালের হরতাল কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচি চলাকালে আজ (বৃহস্পতিবার) সেখানে পুলিশি ধরপাকড় শুরু করলে মোর্চা সমর্থকরা ফাঁড়ি ও পাতলেবাসের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে পুলিশের তল্লাশি ও বিভিন্ন জায়গায় চেকিংয়ের প্রতিবাদে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের হরতালের ডাক দেয় মোর্চা।

সকালে পাহাড়ের বিশেষ দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস কর্মকর্তা জাভেদ শামিম, অজয় নন্দা এবং সিদ্ধিনাথ গুপ্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে সিংমারিতে মোর্চার সদর দপ্তরে হানা দেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। দরজা ভেঙে মোর্চার সদর দপ্তরে ঢুকে সেখান থেকে উদ্ধার হয় কুড়ুলের মতো প্রচুর ধারালো অস্ত্র, তীর-ধনুক এবং বিস্ফোরক।

এরপর পাতলেবাসে বিমল গুরুংয়ের বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ মোবাইল ফোন, তীর-ধনুক ও নাইটভিসন ক্যামেরা উদ্ধার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুলিশ দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পংয়ে দফায় দফায় তল্লাশি চালায়। পুলিশ পাতলেবাস থেকে বেরিয়ে আসতেই পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন মোর্চার নারী সদস্যরা। এসময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-বৃষ্টি শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। 

এদিকে মোর্চা নেতা বিনয় তামাঙের দাবি, উদ্ধার হওয়া ওগুলো অস্ত্র নয় চাষবাসের সামগ্রী। তীর-ধনুকগুলো একটি স্কুলের তীরন্দাজ-এর প্রতিযোগিতার জন্য রাখা ছিল। সেগুলোকেই অস্ত্র হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এটা আন্দোলন প্রতিহত করার একটা চক্রান্ত। 

মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য পাহাড়ে অশান্তি শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে রাজ্য সরকার পুলিশকে ব্যবহার করছে।

মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিনয় তামাং বলেন, পুলিশ আমাদের প্রথাগত তীর-ধনুক আটক করে সেসব মজুত অস্ত্র বলে চালাচ্ছে। এই জন্যই আমরা গোর্খাল্যান্ড চাচ্ছি। আমাদের অধিকার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সবকিছু ধরে রাখতেই গোর্খাল্যান্ড প্রয়োজন।

এদিকে গতকালই মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার পাহাড়ে যুব ও নারী মোর্চার পক্ষ থেকে মিছিল হবে। পুলিশ তা জোর করে আটকালে পাহাড়ে একনাগাড়ে হরতাল হতে পারে। তখন তারা পানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও বন্ধ করে দিতে পারেন। পুলিশ অবশ্য আজ নারী মোর্চার মিছিলে বাধা দিতেই বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ শুরু হয়েছে।

দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব মহর্ষি গোটা বিষয়ের উপরে নজর রাখছেন। কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে সেখানে ১০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী পাঠিয়েছে।- সূত্র : রেডিও তেহরান।


ব্রেকিংনিউজ/এম হায়দার