শিরোনাম:

লন্ডন অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৫ বাংলাদেশি নিখোঁজ

প্রবাস ডেস্ক,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০১৭, ১১:৩২
অ-অ+
লন্ডন অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৫ বাংলাদেশি নিখোঁজ

ঢাকা: পশ্চিম লন্ডনের ২৭ তলা বিশিষ্ট গ্রেনফেল টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের ৫ বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সোয়া একটার ওই অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। 

জানা গেছে, নিখোঁজ ওই পরিবারের সবাই বাংলাদেশের মৌলভীবাজরের বাসিন্দা। ফ্ল্যাটটিতে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন কমরু মিয়া। পশ্চিম লন্ডনের বহুতল ওই ভবনে দেড়শর মতো আবাসিক ফ্ল্যাটের ১৪২ নম্বরে থাকতেন তারা। মেয়ে তানিমার (হাসনা বেগম তানিমা) আগামী ২৯ জুলাই বিয়ের দিন ধার্য হয়েছিল।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর দমকল কর্মীরা ৬৫ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনটিতে অনেকে আটকে ছিলেন। বাঁচার জন্য কেউ কেউ জানালা দিয়ে লাফিয়ে নিচে পড়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি এই পরিবারের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যায়নি।

কমরু মিয়ার ভাতিজা যুক্তরাজ্যের চেলসির বাসিন্দা আবদুর রহিম গতকাল বুধবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার পর রাতে চাচাতো বোনের (হাসনা বেগম তানিমা) সঙ্গে টেলিফোনে তার কথা হয়েছে। তখন তিনি বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন।

তিনি আরও জানান, আগামী ২৯ জুলাই তানিমার বিয়ের দিন ঠিক ছিল। আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতিও ছিল। বিয়ের পর বাংলাদেশেও যাওয়ার কথা ছিল তাদের। ব্রিটিশ যুবক লেস্টারের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল।

ইউকে বাংলা প্রেসক্লাবের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মুনজের অাহমদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, মায়াভরা হাসিমুখের বোনটির নাম হোসনা বেগম (২২)। ডাকনাম তানিমা। মা-বাবার পছন্দেই আসছে ২৯ জুলাই বিয়ের দিন ধার্য হয়েছিল। 

মৌলভীবাজারে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হোসনার শাড়িসহ বিয়ের সব কেনাকাটাও সম্পন্ন ছিল। বিয়ের হল বুকিংসহ সব কিছু রোজার আগেই শেষ হয়েছে।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘না, বোনটির আর বিয়ের পিড়িতে বসা হবে না। লন্ডনে পুড়ে যাওয়া ভবনটির ১৭ তলার ১৪৪ নম্বার ফ্লাটে বাবা কমরু মিয়াসহ মা আর ভাইয়ের সাথেই বসবাস করতেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোরে লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারের লেলিহান বিভীষিকাময় আগুন হতভাগ্য বাসিন্দারের মতো পুড়িয়ে দিয়েছে হোসনার সব সপ্নও। সেহরি আর ফজরের নামাজের পর ধেয়ে আসা যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর দুয়ারে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া কোনো পথও ছিল না তাদের।’

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এসএইচ