শিরোনাম:

দার্জিলিং ছেড়ে পালাচ্ছে পর্যটকরা

ভারত ডেস্ক,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : সোমবার, ১২ জুন ২০১৭, ০৯:১৫
অ-অ+
দার্জিলিং ছেড়ে পালাচ্ছে পর্যটকরা

ঢাকা : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ডাকা অনির্দিষ্টকাল হরতাল চলাকালে একাধিক সরকারি অফিসে আগুন দেওয়ায় আতঙ্কিত পর্যটকরা পালাচ্ছে পাহাড় ছেড়ে।

দার্জিলিংয়ের স্কুলগুলোতে বাংলা ভাষা পড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও আলাদা গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে এই হরতাল ডেকেছে মোর্চা।
 
গত সপ্তাহ জুড়ে দার্জিলিংয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে যে সংঘাত চলছে, আজ (সোমবার) মোর্চার ডাকা হরতালের প্রথম দিনে তা চরমে পৌঁছায়। যখন মোর্চার সমর্থকরা লেবং কার্ট রোডে পূর্ত দফতরের অফিসে ও বিজনবাড়ি গ্রামের পঞ্চায়েত কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এদিন দার্জিলিংয়ে ব্যাঙ্ক বা সরকারি অফিস কিছুই খোলেনি, চলেনি পর্যটকদের বড় আকর্ষণ পাহাড়ের বিখ্যাত টয় ট্রেন। সোনাদায় ভাঙচুর চালানো হয় বিদ্যুৎ দফতরের অফিসেও। 

যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলছে, হরতাল সমর্থকদের শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে। কারণ, যে সব ইস্যুতে মোর্চা হরতাল ডেকেছে তার মধ্যে একটা হল পাহাড়ের স্কুলগুলোতে বাংলা শেখানো চলবে না যদিও রাজ্য সরকার বলছে বাংলা ভাষাশিক্ষা হবে পুরোপুরি ঐচ্ছিক।

এর আগে মোর্চার নেতা বিমল গুরুং জানিয়েছিলেন, এখন তাদের কর্মীদের ঘরে চুপচাপ বসে থাকার সময় নয়। যে স্বৈরতান্ত্রিক নীতি নিয়ে বাংলা তাদের সংস্কৃতিকে আমাদের নেপালি বা গোর্খা জাতিসত্ত্বার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে সেটা তো প্রতিনি টিভিতে সবাই দেখতে পাচ্ছে। আমাদের লোকজন নীরবে সেটা আর সহ্য করবে না, তারা আন্দোলন করে জেলে যাবে কিন্তু জাতিসত্ত্বার ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না।

তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের ধারণা, মোর্চার নিয়ন্ত্রণে থাকা গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাব-নিকাশ পরীক্ষা করানোর যে উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, তা ভন্ডুল করতেই এই বনধের ডাক দিয়েছেন বিমল গুরুং।

মোর্চার হুমকিতে ভয় পাওয়ার পাত্রী তিনি নন এমন দাবি করে মমতা বলেন, পাহাড়ে আমি লক্ষ কোটি-বার যাব। আমি প্রতি মাসে দার্জিলিংয়ে যাই। এই কারণে অনেকের রাগ আমার ওপরে কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আগে কেউ আসত না বলে লুটেপুটে খাওয়া যেত। এখন আমি আসছি বলে হয়তো লুটেপুটে খাওয়া যাচ্ছে না, তাতেই রাগ বেড়েছে। এখন কোন নেতা কী হুমকি দিল-তাতে আমার থোড়াই কেয়ার!

দুপক্ষের এই অনড় অবস্থানে আপাতত প্রবল সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকরা। পাহাড়ে বেড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করে তাদের এখন শীঘ্রই সমতলে ফিরতে হচ্ছে। পর্যটকদের অনেকেই বলছিলেন, যেভাবে অফিস-কাছারিতে আগুন দেওয়া হচ্ছে বা রাস্তাঘাটে দাঙ্গার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে শীঘ্রই দার্জিলিং থেকে বিদায় নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে কোনও রাস্তা নেই।

এদিকে উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক এমপি দেবপ্রসাদ রায় বলেন, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাও জানিয়ে দিয়েছে, দার্জিলিংয়ে আসা পর্যটকদের ভালমন্দের কোনও দায়িত্ব তারা নেবে না। তিনি বলেন, পাহাড়ে এই আতঙ্ক আর অস্থিরতার বীজ অবশ্য নিহিত আছে দার্জিলিংয়ের জাতিগত ও প্রশাসনিক কাঠামোতেই।

সাবেক এই এমপি আরো বলেন, একদিকে আবেগ অন্য দিকে সংবিধান। একদিকে নেপালি জাতিসত্ত্বার প্রশ্ন, পৃথক গোর্খাল্যান্ডের মধ্যে দিয়ে যারা তার স্বীকৃতি দাবি করছে অন্যদিকে পশ্চিমবাংলার দৃষ্টিকোণে এই রাজ্যের অখন্ডতা বজায় রাখার প্রশ্ন। এই দুটোর মধ্যে কিছুদিন পর পর সংঘাত হতে বাধ্য।

তিনি মনে করেন, দেশের সংবিধান সংশোধন করে দার্জিলিংকে যদি একটি অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের মর্যাদা দেওয়া যায় ও নেপালি ভাষাভাষী সংখ্যালঘুদের হাতে তার কর্তৃত্ব দেওয়া যায় তবেই সম্ভবত এই সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান বেরোতে পারে। কিন্তু আপাতত দার্জিলিং পাহাড় আরও এক দফা প্রবল অস্থিরতার দিকেই এগোচ্ছে বলে ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে। -সূত্র : বিবিসি।


ব্রেকিংনিউজ/এম হায়দার