শিরোনাম:

ফেরারি থেকেই অবসর নিলেন সেই বিচারপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : সোমবার, ১২ জুন ২০১৭, ০৫:৩৪
অ-অ+
ফেরারি থেকেই অবসর নিলেন সেই বিচারপতি

ঢাকা: তিনিই প্রথম বিচারপতি হাইকোর্টে কর্মরত অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট যার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। কিন্তু গ্রেফতার করতে গিয়ে তিন রাজ্যের পুলিশও খোঁজ পায়নি তার। অবশেষে ফেরারি আসামি হিসেবেই বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্র্টের আলোচিত সেই বিচারপতি সি এস কারনান। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম  কোনো বিচারপতি ফেরারি অবস্থায় অবসর নিলেন।

শীর্ষ আদালতকে অবমাননা করার অভিযোগে গত ৯ মে কারনানের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের ৭ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রথমে অবশ্য কলকাতা হাইকোর্টের এই বিচারপতির বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছিল বেঞ্চ। কিন্তু পাল্টা রায়ে ডিভিশন বেঞ্চের সদস্যদের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন কারনান। এর পরেই কারনানের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে শীর্ষ আদালত। সেই থেকেই ফেরার কারনান। প্রথমে জানা গিয়েছিল, চেন্নাইয়ে নিজের বাড়িতে আছেন তিনি। কিন্তু সেখানে তার খোঁজ পায়নি পুলিশ। এক বার শোনা যায়, সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল বা বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছেন কারনান। কিন্তু তারও কোনও প্রমাণ মেলেনি। ইতিমধ্যে আইনজীবীর মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করে সেই সুপ্রিম কোর্টেরই দ্বারস্থ হন কারনান। তার আইনজীবী ম্যাথিউজ দাবি করেন,  রাষ্ট্রপতি বিচারপতিকে সাক্ষাতের সময় দিলে তবেই ফিরতে পারেন তিনি। ম্যাথিউজ অভিযোগ করেন, ‘বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো হচ্ছে। বিচারপতি কারনানের উপরে সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে। তিনি আইনি পথেই যা করার করছেন।’

কর্মরত বিচারপতিকে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন ওঠে, কলেজিয়াম যাকে নিয়োগ করেছিল, তাকেই জেলে পাঠাতে চেয়ে কী বার্তা দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট? কারও কারও মত, সুপ্রিম কোর্ট চাইলে বিচারপতির ইমপিচমেন্টের জন্য সংসদকে আর্জি জানাতে পারত। কিন্তু কোনও বিচারপতির বিচারের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা সংবিধানে নেই। শুনানির সময়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল মনীন্দ্র সিংহ, কে কে বেণুগোপাল, রূপেন্দ্র সিংহ সুরির মতো প্রবীণ আইনজীবীরা মেনে নেন, কারনান যা করছেন তা আদালতের চূড়ান্ত অবমাননা। এর কড়া শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু শাস্তির নির্দেশ এক মাস পরে, তার অবসরের পর দেওয়া উচিত হবে কি না, তা নিয়ে আইনজীবী বেণুগোপাল সংশয়ে ছিলেন। তার যুক্তি ছিল, কোনও কর্মরত বিচারপতির কারাদণ্ড হলে তাতে বিচারবিভাগের গায়েই কলঙ্ক লাগবে।

এ রকম নানা যুক্তি, পাল্টা যুক্তির মধ্যে অবশেষে বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিলেন কারনান। কিন্তু বিতর্ক থেকেই গেলো বিচার বিভাগে।

ব্রেকিংনিউজ/এনএআর