Ads-Top-1
Ads-Top-2

তানিমের ছোটগল্প ‘ওয়াটার মেলন’

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
২৯ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার
প্রকাশিত: 08:38:00 আপডেট: 06:02:47
তানিমের ছোটগল্প ‘ওয়াটার মেলন’

হতে পারে মেয়েটির কাছে টাকা পয়সা বিশেষ ছিল না। তাই অনেকগুলো তরমুজের মধ্যথেকে একটি তরমুজ যখন সে বাছাই করলো, দুর্ভাগ্য বশত সেটি ছিল তার ধারণার চাইতে বেশি দামী। মেয়েটি সন্দেহ পোষণ করলো যে, তরমুজের দাম কি আসলেই এতো বেশি নাকি? দোকানদার মেয়েটিকে জানালো, এক সপ্তাহ আগেও এই তরমুজ অর্ধেক দামে পাওয়া যেতো। কিন্তু সিজন শেষ হয়ে আসায় বর্তমানে দাম একটু বেশি। মেয়েটি আন্তরিক ভঙ্গিতে হেসে সেক্ষেত্রে আর তরমুজ খাওয়ার দরকার নেই বলে চলে যেতে চাইলে দোকানকার তাকে বিশ টাকা কম দেওয়ার অফার করলো। কিন্তু সেক্ষেত্রেও তরমুজ খাওয়ার দরকার নেই মনে করে মেয়েটি তার চলেই যেতে থাকলো।

তরমুজ পর্ব শেষ হওয়ার আনুষ্ঠানিক হাসি দিয়ে ফল দোকানদার আমার দিকে তাকালো। ও হ্যাঁ, আপনার ডালিম। পাকিস্তানিটা ভালো হবে। দিবো? দাম একটু বেশি। আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, তরমুজের দামও তো বেশি! পাইছেন কী? সমব্যথী স্বরে, একটু ঝুঁকে এসে ফল দোকানদার বললো, বিশ টাকা কমানোর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নাই। মেয়েটাকে দেখে মনটা ফ্রেশ হয়ে গেছিল। সেজন্য কমালেন? হ্যাঁ, তবু দেখেন, নিলো না। তার হয়তো বাজেট কম ছিল। কিন্তু কতো, সেটা বলবে তো, কিছুই না বললে আমি তো তরমুজটা হাতে ধরিয়ে বলতে পারি না যা ইচ্ছা দাম দেন! আমার ধারণা সে দেড়শো টাকার মধ্যে তরমুজ কিনতে চেয়েছিল। হুম, ঠিক বলেছেন, দেড়শো টাকায় দিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।

সঠিক সময়ে সাধ্যের মধ্যে দাম বলতে না পারায় দৃশ্যতই ভেঙে পড়লো ফল দোকানকার। আমার কাছে বেশি দামে পাকিস্তানি ডালিম বিক্রি করার আগ্রহ ফেললো হারিয়ে। বিড়বিড় করে শুধু আফসোস করতে থাকলো, ইশ মেয়েটাকে তরমুজটা দিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। আমি বললাম, দেখেন ভাই এখানে আপনার তো কোনো দোষ নাই। আলাপ বেশিদূর আগায় নাই। আগাইলে তো এক পর্যায়ে আপনি দেড়শো টাকাতেই দিতেন। এ সান্ত্বনায় দোকানদার খুশি হলো, আশাবাদ ব্যাক্ত করলো, ফেসটা তো চেনাই থাকলো, পরে কখনো দেখলে একটা তরমুজ না হয় সে তার তরফ থেকে গিফটই করে দেবে।

চারটা ডালিম ওজন করে প্যাকেট করে আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে দোকানদার বললো যা ইচ্ছা দাম দেন। আমি আরে না না, এসবের কোনো দরকার নাই বলে চারটা ডালিমের প্রকৃত দাম জানতে ব্যাকুল হয়ে উঠলাম। কিন্তু ফল দোকানকার কিছুতেই প্রকৃত দাম বলতে রাজি হলো না। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে, বরং ডালিমের বদলে পূর্ব নির্ধারিত দামে মেয়েটির বাছাইকরা তরমুজটিই আমি কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এতে অবাক বিস্ময়ে দোকানদার কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমিও, কোনো দুর্বলতা না প্রকাশ হয়ে যায়, সেই মতো করে বললাম, মানে ডালিমের প্রকৃত দাম না বললে তরমুজ কেনা ছাড়া আমার আর কী-ই বা করার থাকে?

আমতা আমতা করতে থাকা আমাকে খামোশ বলে থামিয়ে দিলো ফল দোকানকার। অবজ্ঞার হাসি দিয়ে জিগ্যেস করলো, কী করা হয়? আমি ইয়ে মানে সাংবাদিক, বলে একেবারে মরমে মরে গেলাম। চারটা ডালিম চারদিকে ছুঁড়ে দিয়ে সে বললো, এই তরমুজের প্রকৃত দাম সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা আছে? হ্যাঁ, দুইশো বিশ টাকা। আরে ধুর! ধমক দিয়ে আবারও থামিয়ে দিলো আমাকে। আবারও বিড়বিড় করে বলতে থাকলো, ইশ কেন যে মেয়েটাকে দেড়শো টাকায় তরমুজটা দিলাম না! আমি বললাম ভাই, আমি চলে যাই? কিন্তু ফল দোকানদার হাতে ধরে আমাকে টেনে নিয়ে দোকানের ভেতর ঢোকালো।

কয়েকটা খোরমা খেজুর খেতে দিয়ে বললো, এই তরমুজের প্রকৃত দাম সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণাই নাই। আমি স্পষ্ট ভাষায় বললাম, ধারণা নাই তা না। অবশ্যই মেয়েটা কিছু ভেল্যু এড করেছে। বলেই সরাসরি জানতে চাইলাম, এই মুহূর্তে তরমুজটা তাহলে কতো টাকায় বেচবেন? বিকট হাসি দিয়ে ফল দোকানদার আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ভাই ভাই করতে থাকলো। শেষে জানতে চাইলো, সর্বোচ্চ কতো দিতে প্রস্তুত আপনি, এই তরমুজটার জন্য? মানিব্যাগ বের করে দেখলাম দুই হাজার টাকার মতো আছে। যা আছে সব নেন, বলে মানিব্যাগটা তার দিকে ছুঁড়ে মারলাম। সবমিলে সতেরশো বারো টাকা। কিন্তু এই দামে তো আস্ত তরমুজ হবে না, ভেবেচিন্তে দোকানদার বললো, কেটে দিই, অর্ধেকটা নিয়ে যান?

সতেরশো বারো টাকায় অর্ধেক তরমুজ! ফাইজলামি করেন? ক্ষেপে গিয়ে আমি দোকানদারের কলার ধরে ফেললাম। আর ঠিক সেই সময় মেয়েটি ফিরে আসলো। দোকানের ভেতর আমাদের মারামারি করতে দেখে সে একটু ঘাবড়ে গেল। এক্সকিউজ মি, আমি তরমুজটা নিতে এসেছি। কোনো সমস্যা? আমাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো মেয়েটি। আমি তড়িঘড়ি করে দোকান থেকে বেরিয়ে এসে বললাম দেখেন অবস্থা, অর্ধেক তরমুজ সতেরশো বারো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ কথা বলতেই মানিব্যাগসহ আমার টাকা ফেরত দিয়ে দোকানদার বললো, ফালতু কথায় একদম কান দেবেন না। এই তরমুজ আপনার জন্য ফ্রি, নিয়ে যান। মানে! মেয়েটা তো কিছুই বুঝতে পারে না। আমি বললাম, এই লোক খুব খারাপ, আপনার অনুপস্থিতিতে তরমুজের দামকে সে কোথায় নিয়ে গেছিল চিন্তাই করতে পারবেন না।

লেখক: কবি, গল্পকার, সাংবাদিক

ব্রেকিংনিউজ/ এমআর

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2