বৃহঃস্পতিবার ১২ই জানুয়ারী ২০১৭ দুপুর ১২:৪৭:৪৯

মৃত্যুর ৭ মাস পর বিচার শুরু, ট্রাইব্যুনালের অসন্তোষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

মৃত্যুর ৭ মাস পর বিচার শুরু, ট্রাইব্যুনালের অসন্তোষ

ঢাকা: মৃত ব্যক্তিকে পলাতক দেখিয়ে চার্জশিট দেয়ার ঘটনার দায় কার তা খতিয়ে দেখতে প্রসিকিউশনকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) বিচারপতি শাহীনুর ইসলামসহ  ট্রাইব্যুনালের ২ সদস্য এ  নির্দেশ দেন।

‘মৃত্যুর ৭ মাস পরও ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন’শিরোনামে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত খবর আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দিয়েছেন। এ সময় আদালত বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।’ এ ঘটনা কিভাবে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে প্রসিকিউশনের প্রতি নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউর সৈয়দ হায়দার আলী, প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা।

জানতে চাইলে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী ব্রেকিংনিউজকে বলেন,‘আজ মৌলভীবাজারের একটি মামলার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেব অসুস্থ্য থাকায় মামলাটির কার্যক্রম চলেনি। এ মামলার পরবর্তী তারিখ  ৩১ জানুয়ারি ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।’ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এর মধ্যে অনির্ধারিতভাবে ট্রাইব্যুনালের এক সদস্য জানান,মিডিয়ার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন মৃত ব্যক্তিকে পলাতক দেখিয়ে মামলা চলছে। এসময় আমরা বলেছি, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্ত করছি।’

একাত্তরের হত্যা,গণহত্যা মামলার আসামি ওয়াজ উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের অক্টোবরে তদন্ত শুরু করে,তদন্ত সংস্থা। শুরু থেকেই পলাতক দেখিয়ে তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও ট্রাইব্যুনালে রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ।

এমন প্রেক্ষাপটে গত ১১ ডিসেম্বর ওয়াজ উদ্দিনকে পলাতক ঘোষণা করে,তারপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, মৃত্যুর সনদ অনুযায়ী আসামি ওয়াজ উদ্দিন ২০১৬ সালের ৫ মে মৃত্যুবরণ করেন।

এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, ‘এটা নিশ্চয়ই বলতে হবে তদন্ত যারা করেছে তাদের গাফিলতি এবং সেই মৃত ব্যক্তির পক্ষে যদি রাষ্ট্র আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকে সেটাও গাফিলতি।’ 

যদিও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা দায় চাপিয়েছেন পুলিশের ওপর। আর পুলিশ বলছে,মৃত্যুর পরই অবহিত করে চিঠি দেয়ার কথা।

আসামিদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন গ্রেফতার হয়েছেন। মামলাটির আরেক আসামি আমজাদ আলী গ্রেফতারের পর মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। একাত্তরে রিয়াজ ছিলেন আলবদর সদস্য, আর ওয়াজ ছিলেন রাজাকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩ জনই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

২১ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে দেয়া অভিযোগপত্রে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের ৫ ঘটনায় রিয়াজ ও ওয়াজকে দায়ী করা হয়।

ব্রেকিংনিউজ/এজেডখান/এনএআর

আপডেট: বৃহঃস্পতিবার ১২ই জানুয়ারী ২০১৭ দুপুর ০১:৩২:২৭