বুধবার ১১ই জানুয়ারী ২০১৭ রাত ১১:৪৫:১৩

১০ মেডিক্যাল কলেজকে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

১০ মেডিক্যাল কলেজকে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা

ঢাকা: সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী ভর্তি করায় ১০ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করে আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) সুপ্রিমকোর্টের ওয়েব সাইটে ৩৭ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

জরিমানাকৃত এই ১০ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হলো- শমরিতা মেডিকেল কলেজ, সিটি মেডিকেল কলেজ, নাইটিঙ্গেল মেডিকেল কলেজ, জয়নুল হক শিকদার মেডিকেল কলেজ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ, তাইরুন নেছা মেডিকেল কলেজ, আইচি মেডিকেল কলেজ, কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও আশিয়ান মেডিকেল কলেজ।

১০ দিনের মধ্যে ১০ মেডিকেল কলেজকে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে গত বছরের ২১ আগস্ট সংক্ষিপ্ত রায় দেয় আপিল বিভাগ।

রায়ে বলা হয়, ধার্যকৃত টাকার অর্ধেক পাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাকি অর্ধেক যাবে কিডনি ফাউন্ডেশন ও লিভার ফাউন্ডেশনে।

এ রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস, বিডিএস কোর্সে ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বেধে দেয়া শর্তানুযায়ী মেডিকেল কলেজগুলোকে চলতে হবে। এমবিবিএস, বিডিএস কোর্সে মেডিকেল গ্রাজুয়েশন সনদ দেয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসরণ না করায় ১০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে এ জরিমানা করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তানুযায়ী ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় কমপক্ষে ৪০ নম্বর পেতে হবে। কিন্তু সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ওই ১০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করায়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিবন্ধিত কলেজগুলোর গাইড লাইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সেটি না মেনে ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজগুলো শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মেডিকেলের মানসম্মত শিক্ষার জন্য আইন তৈরি করার ক্ষমতা সংসদের রয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংসদ হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, এটা প্রতিষ্ঠিত যে আদালত তাদের পলিসি নির্ধারণে কোন হস্তক্ষেপ করতে পারে না এবং শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে হাইকোর্ট কোন নীতিমালা ঠিক করে দিতে পারে না। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করাটা আইনত হবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি আইন লঙ্ঘন করে সেক্ষেত্রে যেকোন নাগরিক আইনের আশ্রয় নিতে পাবে।

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা শর্তে ছিল, ১০০ নম্বরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর পেতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ঢাবি। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের এ শর্ত পূরণ না হওয়ার পরও সরকারি সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ১৫৩ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করায় ওই ১০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। এরপর ওই ১৫৩ শিক্ষার্থীর প্রথম পর্বের (ফার্স্ট প্রফেশনাল এক্সামিনেশেন) রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র আটকে দেয় ঢাবি কর্তৃপক্ষ। ঢাবি’র এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ১৫৩ শিক্ষার্থী। এ আবেদনের শুনানি শেষে গতবছর ১৩ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র দেয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে ঢাবি কর্তৃপক্ষ আপিল করার অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) আবেদন করে। এরপর আপিল বিভাগ গতবছর ৮ আগস্ট এক আদেশে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। একইসঙ্গে একইবছরের ২১ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে শুনানি শেষে মেডিকেল কলেজগুলোকে জরিমানা করে আদেশ দেন। এ আদেশে ঢাবি কর্তৃপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

ব্রেকিংনিউজ/ এজেডখান/এমএস

আপডেট: বুধবার ১১ই জানুয়ারী ২০১৭ রাত ১১:৫০:২৭