বুধবার ১১ই জানুয়ারী ২০১৭ সকাল ০৯:৫৫:১৫

কোমল পানীয়র ক্ষতিকর দিক

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

কোমল পানীয়র ক্ষতিকর দিক

ঢাকা: বর্তমানে খাবারের পর বা ক্লান্তিকালে কোমল পানীয় পান আমাদের রীতিতে পরিণত হয়ে গেছে। যে কোন সময় প্রয়োজনের আশায় অনেকের বাড়ীতে সারাক্ষণ ফ্রিজে মজুত রাখে। যেন কোমল পানীয় আমাদের দৈনন্দিন খাবারে পরিণত হয়েছে। কার্বোনেইটেড পানীয় শরীরের জন্য খারাপ। তারপরও লোভ সামলানো দায়। কোমল পানীয় পানের অদম্য আগ্রহকে দমাতে এই ধরনের পানীয়র কয়েকটি ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট।

১. সুগার 

এতে লো ক্যালরি সুইটনার বা হাই ফ্রোক্টোজ কর্ন সিরাপ ব্যবহার করা হয়। এগুলোর মধ্যে এসপার্টেম, এসিসালফেম, সুক্রালেজ, নিউটেম বা সাইকামেট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সাইকামেট বর্তমানে আমেরিকায় নিষিদ্ধ। এটি সাধারণ সুগারের চেয়ে অনেক গুণ বেশি মিষ্টি এবং পরিমাণে কম হলেই চলে। এটি সাশ্রয়ীও। তবে এটি লিভারের জন্য ক্ষতিকারক। যেমন অ্যালকোহল বা মদ করে থাকে। এগুলোর মধ্যে এসপারটেম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। এটি নিওরোট্রেন্সমিটার হিসেবে কাজ করে। নার্ভের কভারিং বা মায়ালিন সিথের ক্ষতি করে এবং ডোপামিন নামক হরমোন বাধাগ্রস্ত করে। ফলে এটি পার্কিনসন, আলঝেইমার্স, মাল্টিপল স্কেরোসিস বা মৃগীরোগে আক্রান্তদের জন্য ক্ষতিকর। যাদের মাইগ্রেনের ব্যথা আছে, তাদের জন্যও এটি ক্ষতিকর।

২. ক্যানসারের ঝুঁকি

শরীরের জন্য আরেক ক্ষতিকর উপাদান ফরমালডিহাইডও যোগ করা হয় কোমল পানীয়তে। আর এই উপাদান শরীরের কোষের ক্ষতি করে, এর জের ধরে আপনার ক্যানসারও হতে পারে। যদি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পানীয় পান করেন তবে শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

৩. ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ

নিয়মিত কোমল পানীয় পান করলে টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। আমেরিকান ডায়েট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব, তবে পুরোপুরি নাকচ করা সম্ভব হয় না। একই গবেষণায় আরও জানা যায়, কোমল পানীয় ‘মেটাবলিক সিন্ড্রোম’ বা বিপাকীয় প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়, যা ক্রমেই ঠেলে দেয় হৃদরোগের দিকে। আছে উচ্চ রক্তপচাপের আশঙ্কাও।

৪. বৃক্ক ও যকৃৎ

প্রতিদিন একবার কার্বোনেইটেড পানীয় খাওয়াই কিডনি বা বৃক্কে পাথর হওয়া এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট। যকৃতের বিভিন্ন রোগের জন্যও বিশেষভাবে দায়ি অতিরিক্ত কোমল পানীয়। স্থূলতা এবং হাড়ের ক্ষয়ও অতিরিক্ত কোমল পানীয় পানের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া।

৫. শিশুরা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়

অতিরিক্ত ক্যালরির জন্য শিশু মুটিয়ে যাবে। দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে দাঁত বাদামি হয়ে যাবে। দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা বা ক্রনিক অ্যাসিডিটিতে ভুগবে। চঞ্চল প্রকৃতির শিশুরা অধিকতর চঞ্চলতায় ভুগবে।

৬. দাঁতের ক্ষতি

চিনি ও অম্লীয় উপাদান দুটোই প্রচুর পরিমাণে থাকে কার্বোনেইটেড পানীয়তে। দুটোই দাঁতের শত্রু। তাই দাঁতের ক্ষয় ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।

৭. পরিবেশগত সমস্যা

সমস্যাটি আমাদের সরাসরি প্রভাবিত না করলেও, ছোটখাট অবহেলার কারণেই পরিবেশের ক্ষতি হয়। কার্বোনেইটেড পানীয় তৈরিতে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়, এ থেকে সৃষ্ট বর্জ্যও যায় পানিতেই। অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি ক্যান পুরোপুরি রিসাইকেল করা সম্ভব হয় না। আবার অ্যালুমিনিয়াম সংগ্রমের প্রক্রিয়াও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আর যেখানে সেখানে কোমল পানীয়ের বোতল, ক্যান ফেলার কুপ্রবাব তো আছেই।

ব্রেকিংনিউজ/এসএ

আপডেট: বুধবার ১১ই জানুয়ারী ২০১৭ সকাল ০৯:৫৫:১৫