সোমবার ২রা জানুয়ারী ২০১৭ বিকাল ০৪:৩৫:৪৫

অপ্রচলিত নৌযান রেজিস্ট্রেশনে শুরু হচ্ছে নৌ শুমারি

তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

অপ্রচলিত নৌযান রেজিস্ট্রেশনে শুরু হচ্ছে নৌ শুমারি

ঢাকা: দেশের অপ্রচলিত নৌযান এবং অ-নিবন্ধিত নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য নৌ শুমারি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে নৌ পরিবহণ অধিদফতর। এ জন্য এ অধিদফতর ‘জাতীয় নৌযান ও যন্ত্রচালিত বোটের ডাটাবেইজড তৈরিকরণ ও নৌ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক ৪৪ কোটি ৩২ লাখ ৪২ হাজার টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

সূত্র জানায়, দেশে অপ্রচলিত নৌযানের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখের উপরে। এর মধ্যে কিছু রয়েছে কাঠের বা স্টিলের আর কিছু নৌযানে সংযোজন করা হয়েছে যন্ত্র বা মটর। এসব নৌযানের দৈর্ঘ্য ৪০ মিটারের কম। যা সাধারণত যাত্রী পারাপার, মালামাল বহন, গৃহস্থালি পণ্য পরিবহন, বালি পরিবহণ, মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত হয়। অথচ এসব নৌযান কোনো রেজিস্টার্ড শিপইয়ার্ডে তৈরি হয় না। কোনও প্রকার বিধি বিধানেরও তোয়াক্কা করে না। এদের অধিকাংশই নদীর তীরে স্থানীয় প্রযুক্তি ও বাড়ির উঠানে তৈরি করা হয়ে থাকে।

সকল নৌযান নিবন্ধিত না হওয়ার, শিপইয়ার্ডে তৈরি না হওয়ার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আরোপিত মুসক ১১ কার্যকর না হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নৌ পরিবহণ অধিদফতর কর্মকর্তাদের। নিন্ধনের অগেই এসব রাজস্ব দেয়ার বিধান থাকলেও তা পরিশোধ করতে না পারার কারণে মামলাসহ নানা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে নৌযান মালিকসহ সংশ্লিষ্ট নৌযান সার্ভেয়ারদের।

জানা যায়, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিনেন্স ১৯৭৬ অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ রুটে চলাচলকারী নৌযানের রেজিস্ট্রেশন দিয়ে থাকে। নদীপথে শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সরকারের রাজস্ব আয়ের জন্য নৌ যানের রেজিস্ট্রেশনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মূল্যসংযোজন কর আইন ও তার অধীনে প্রণীত বিধিমালা মোতাবেক নৌ পরিবহণ অধিদফতর রেজিস্ট্রেশনের আগে অন্যান্য ডকুমেন্টের সঙ্গে এনবিআরের দেয়া মুসক ১১ চালানপত্র দাখিল করার বিধান রয়েছে।

কিন্তু নতুন ও অপ্রচলিত নৌ যানসমূহ নদীর তীরেই স্থানীয় প্রযুক্তির ব্যবহারে উন্মুক্ত স্থানে বা বাড়ির উঠানে তৈরি করার কারণে মূসক নিবন্ধিত (ভিআইএন) কোনো প্রতিষ্ঠান বা ডকইয়ার্ডে তৈরি হয় না। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ভ্যাট সরাসরি নৌযানের উপর প্রযোজ্য নয়, নৌ যান প্রন্তুতকারী  ডকইয়ার্ড বা শিপইয়ার্ডের উপর প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে অপ্রচলিত নৌ যানের মালিকদের পক্ষে ডকইয়ার্ডের জন্য প্রযোজ্য ভ্যাট চালান বা মূসক ১১ চালানপত্র দেয়া সম্ভব নয়।

সমস্যা সমাধানের জন্য সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি কমিটি করেছ। এ কমিটি প্রয়োজনীয় আইন তৈরির পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ে নিয়মনীতি তৈরি করবে।

নৌ পরিবহণ অধিদফতর প্রধান প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক একেএম ফখরুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে জানান, দেশের বিভিন্ন নদীতে চলাচলকারী সকল ধরনের নৌকা এবং জাহাজের তালিকা করা হবে। এজন্য দেশের প্রতিটি জেলায় আলাদা করে জরিপ করা হবে। এতে খেয়া পারাপার, মাছধরার ছোট-বড় নৌকা ও যন্ত্রচালিত পণ্য পরিবহণ ও যাত্রী পরিবহণে নিয়োজিতদের তালিকা করা হবে। এ জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩ জুলাই ২০১৯ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কাজের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হবে। এদের পরামর্শ অনুযায়ীই নৌ শুমারির কাজ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নৌযান মালিকদের দায়বদ্ধতার মধ্য নিয়ে আসার পাশাপাশি দেশে মোট নৌযানের সংখ্যা কতো তা নিরুপণ করা সম্ভব হবে। ফলে সরকারের প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। এ প্রকল্পটি এখন একনেকে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করা হচ্ছে এ মাসের মধ্যেই প্রকল্পটির অনুমোদন পাবে।

নৌ পরিবহণ অধিদফতর সূত্র জানায়, নতুন কোনো নৌযান নিবন্ধনের জন্য সরকারকে ৫ প্রকারে রাজস্ব দিতে হয়। এগুলে হলো-সার্ভে ফিস (৯টি ক্যাটাগরিতে নেয়া হয়), রেজিস্ট্রেশন ফি- ৭টি ক্যাটাগরিতে নেয়া হয়। এছাড়া অনুমিত আয়কর, ভ্যাট, এবং কঞ্জারভেন্সি টাকা নেয়ার বিধান রয়েছে। নৌ পরিবহণ অধিদফতর সূত্র আরও জানায়, ২০০০ সাল থেকে নৌযানের নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম বাড়তে থাকে। ২০০০ সালে ১০৪টি, ২০০১ সালে ১২৮টি, ২০০২ সালে ১৫২টি, ২০০৩ এ ১৯৩টি, ২০০৪ সালে ২১৩টি, ২০০৫ সালে ৩৬১টি, ২০০৬ এ ১২৪৬টি, ২০০৭ সালে ৯০৪টি, ২০০৮ সালে ৭৪৮টি, ২০০৯ এ ৬৪২টি, ২০১০ সালে ১০০৬টি, ২০১১ সালে ১২৬০টি হলেও বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার নৌ যানের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে।

ব্রেকিংনউজ.কম.বিডি/ টিআইএস/ এমআর

আপডেট: সোমবার ২রা জানুয়ারী ২০১৭ বিকাল ০৫:১৭:৩৪