শনিবার ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৬ দুপুর ০২:৩১:৪৫

জেলা পরিষদ নির্বাচন

টাকা আদায়ে পরাজিত প্রার্থীদের হালখাতা

জেলা প্রতিনিধি, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

টাকা আদায়ে পরাজিত প্রার্থীদের হালখাতা

মেহেরপুর: সারা বছর মালামাল বাকিতে বিক্রয় করেন দোকানীরা। বছর শেষে অথবা শুরুতে ব্যবসায়ীরা বকেয়া আদায়ে মাঠে নামেন। এসময় ক্রেতাদের কেউ কেউ নগদে পরিশোধ করেন আবার অনেকেই কয়েকদিন সময় নেন। ঠিক এমন ভাবেই টাকা আদায় করছেন মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা।

তারা বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরকে ভোট পেতে টাকা দিয়েছিলেন। তাই যারা ভোট দেননি তাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে মাঠে নেমেছেন পরাজিত প্রার্থীদের অনেকেই। কেউ কেউ নগদে পরিশোধ করছেন আবার কেউ কেউ সময় নিচ্ছেন।

বিষয়টি বর্তমানে এলাকায় প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই ভোটারদের ‘বদ হজম’ বলেও আখ্যায়িত করছেন। এলাকার লোকজন বলছেন, পরাজিত প্রার্থীদের অনেকে এখন ‘হালখাতা’করছেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী জানান, নির্বাচনের আগে ভোট দেয়ার অঙ্গীকার করে দু’জন ইউপি চেয়ারম্যান ও অর্ধ শতাধিক মেম্বার কয়েক লক্ষ টাকা নেন। কিন্তু তারা ভোট দেননি। বেঈমানী করেছেন। এখন আমার সমর্থকরা ক্ষোভ থেকেই টাকা ফেরত চাচ্ছেন, এতে দোষের কি? ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউপি’র সদস্যরা কিছু টাকা ফেরতও দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছ থেকে ভোটার প্রতি ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন তেঁতুলবাড়ীয়া, রাইপুর, ধানখোলা, গাংনী পৌরসভা ও সাহারবাটি ইউনিয়নের কয়েকজন মেম্বার। কিন্তু ফলাফলে ওই প্রার্থী বুঝতে পেরেছেন টাকা নেওয়া অনেকেই ভোট দেননি। তাই তার সমর্থকরাও নেমেছেন টাকা আদায়ে।

শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার জাকির হোসেন জেকেরের বাড়িতে তারা কয়েকজন টাকা আদায়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমা প্রার্থনা করে আগামী রবিবার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেকের। যেকোন মূলে এ টাকা উদ্ধারের কথা জানালেন ওই প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক।

ওয়ার্ড নং-১৪ (ষোলটাকা ও বামন্দি) মেম্বার প্রার্থী মঙ্গল নির্বাচনে পরাজিত হবার পর ৬ ইউপি মেম্বারের কাছ থেকে টাকা ফেরত চেয়েছেন। মঙ্গল ও তার নেতাকর্মীরা মেম্বারদে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালখাতার মতই টাকা ফেরত দেওয়ার দাওয়াত দিয়েছেন।

এদিকে মটমুড়া ওয়ার্ডের একজন মেম্বার প্রার্থী ৭ জন ভোটারকে সাত লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। তিনি একটি ভোটও পাননি। তিনিও টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন। অপরদিকে একই অবস্থা তেঁতুলবাড়ীয়া ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী নাজমুল হুদা বিশ্বাস ও ধানখোলা ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাকের। তাদের কাছ থেকে টাকা নিলেও ভোটাররা ভোট দেননি। তাই টাকা আদায়ে মাঠে নেমেছেন তারা দুজন।

তবে অভিযুক্ত কয়েকজন মেম্বার জানান, প্রার্থীরা বারে বারে টাকা নিয়ে তাদের বাড়িতে এসছেন। টাকা না নিলে তারা মনে করছিলেন যে ভোট দেবে না। তাই পারিপার্শিক অবস্থা বিবেচনায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেকেই টাকা নিয়েছেন। ভোট দিতে পারেননি তাই টাকা ফেরত দিতে তারাও তৎপর।

প্রসঙ্গত, প্রথম বারের মত অনুষ্ঠেয় জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্জ গোলাম রসুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অ্যাড. মিয়াজান আলী। গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহিদুজ্জামান খোকন ও মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়া উদ্দীন বিশ্বাসও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/এআর

আপডেট: শনিবার ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৬ দুপুর ০২:৩১:৪৫