শনিবার ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৬ দুপুর ০২:০৯:৪০

সফল আ.লীগের কালিমা শুধু ইউপি নির্বাচন

ইমরান আহমেদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

সফল আ.লীগের কালিমা শুধু ইউপি নির্বাচন

ঢাকা: রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিকভাবে একটি সফল বছর পার করলো ক্ষামতাসীন দল আওয়ামী লীগ। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পার দলটির জন্য বিদায়ী এ বছরটি ছিল বেশ স্বস্তিদায়ক। বিরোধী রাজনৈতিক দলের ২০১৪ ও ১০১৫ সালে বিরোধী শক্তির আন্দোলনে বেশ বিব্রতকর অবস্থানে ছিল দলটি। তবে বিদায়ী বছরের শুরুতে ৫ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ দিবসে বিশাল জনসমাগমে সমাবেশ করে পুনরায় নিজেদের অস্থিত্বের জানান দেয় দলটি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দলটিকে।

গত দুই বছরের দখল কাটিয়ে বিদায়ী বছরটি ছিল আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে সফল একটি বছর। বছরের শেষে প্রশ্নহীন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিজয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত সফলতা পায় দলটি। তবে বছরের শুরুতে প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়তে হয়েছিল দলটিকে। ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বাহিরে ২ হাজার বিদ্রোহী প্রার্থীতে তৃণমূলে লাগামহীন ছিল দলটি। সেই সাথে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের মাধ্যমে ব্যাপক প্রাণহানীর কালিমাটি লেপটে ছিল ক্ষমতাসীন এ দলটির গায়ে।

ছয় ধাপে মোট ৪ হাজার ২৭৯টি ইউপিতে নির্বাচনের জন্য ১১ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে ৭শত ৫২ ইউপির ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ২২ মার্চ। ৩১ মার্চ ৭১০, ২৩ এপ্রিল ৭১১, ৭ মে ৭২৮, ২৮ মে ৭১৪ এবং ৪ জুন ৬৬০ ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।  ছয় ধাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা ২ হাজার ৬শত ৭২ ইউপিতে জয় পায়। বিএনপি ৩শত ৭২ ও জাতীয় পার্টি জয় পায় ৫৭টিতে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৮শত ৮০ ইউপিতে, যার বেশিভাগই আবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

তবে এ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা জয় পেলেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে। ছয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দেশের ৪৬ জেলায় ১৪৫ জনের প্রাণহানি ও প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। এই নির্বাচনে ২১৪ জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ারও নজির স্থাপন করেছেন। নির্বাচনে বিতর্কিত কর্মকান্ড নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অনিয়মের অভিযোগ তোলেছে প্রতি ধাপেই।

বছরের মাঝামাঝিতে আলোচনায় ছিল আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। তবে কাউন্সিলের ঝাকজমক অবস্থা ছিল বছরের শুরু থেকেই। কয়েক ধাপে পিছিয়ে এ সম্মেলন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২২ ও ২৩ অক্টোবর। সম্মেলনে নানা গুঞ্জনের মধ্য দিয়ে দলের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পায় ওবায়দুল কাদের।

সম্মেলনের টুকিটাকি:

অক্টোবর ২২ : টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সফল ভাবে সম্পন্ন। সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানটিও ছিল বেশ জাঁকালো।

অক্টোবর ২৩ : সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও নতুন মুখ হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

অক্টোবর ২৫ : সম্মেলনে নির্বাচিত নতুন কমিটির সদস্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এই দিন দুপুরে সম্পাদকমণ্ডলীর বাকি ১৯টি পদের মধ্যে ১৪ জনের নাম ঘোষণা করেছেন ওবায়দুল কাদের। এর মধ্যে ছয়টি পদে এসেছে নতুন মুখ।

অক্টোবর ২৯ : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার মুক্ত হওয়ার পর ছুটি কাটাতে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম লন্ডনে গেলে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

অক্টোবর ২৯ : ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ, যাতে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ২৮ জনের মধ্যে ১৮ জনই নতুন।

তবে সম্মেলনের বড় একটা চমক ছিল সোহেল তাজ। সম্মেলনের আগে রাজনীতিতে সোহেল তাজের স্বক্রিয় হওয়ার বিষয়টি ছিল সম্মেলনের আগে টক অব দ্যা টাইম। এছাড়া আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের দুদিন আগে দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাড়িতে হঠাৎ সোহেল তাজের আগমন এবং পরে গণভবনে দলের সভানেতত্রীর সাথে সাক্ষাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছিল।

প্রধানমন্ত্রী ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের পুরস্কার:

আওয়ামী লীগের গায়ে গর্বের চাদর জড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার দুইটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এজেন্ট অফ চেঞ্জ’ পুরস্কারে ভূষিত করে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য ও সাহসী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়।  নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ‘ইউএন ওম্যান’। গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

আলো ছড়িয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। ডিজিটাল বিশ্বের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভার্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস,  প্লান ট্রিফিনিও, গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট প্রদেশের নিউ হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস সম্মিলিতভাবে ১৯ সেপ্টেম্বর এই পুরস্কার প্রদান করেন।

চীনা প্রেসিডেন্টের আগমন:

১৪ অক্টোবর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর আগমণে রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ ছিল বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। প্রায় তিন দশক পর বিশ্বের ক্ষমতা ধর এ দেশটির প্রধানের আগমণে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপট বেড়েছে কয়েক গুন। এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ২৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করে দু’দেশ। এর মধ্যে ছ’টি চুক্তি। বাকি ২০টি সমঝোতাপত্র। এছাড়াও চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, সড়ক পরিকাঠোমো, পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ-সহ অন্যান্য প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।

নাসিরনগর নিয়ে আওয়ামী লীগ ছিল বিব্রত:

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরে অন্তত ছয়টি মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় আহত হয়েছিল অন্তত ৫০ জন। হামলায় মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর, আসবাব তছনছ ও প্রণামি বাক্স ভাঙচুর করে টাকাপয়সা লুঠ করা হয়। বাড়িঘর ভাঙচুর করে জিনিসপত্র লুঠ করা হয়। এরপর একই কায়দায় সদরের পশ্চিম পাড়ার জগন্নাথ মন্দির, নমশূদ্র পাড়ার কালীবাড়ি মন্দির, মহাকাল পাড়ার শিবমন্দির, দুর্গামন্দির, শীলপাড়ার লোকনাথ মন্দির, দত্তপাড়ার দত্তবাড়ি মন্দির, সূত্রধরপাড়ার কালীমন্দিরসহ এসব পাড়ার দুই শতাধিক বসতঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।এ হামলায় আওয়ামী লীগ ছিল বেশ বিব্রত। আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই নেতার কোন্দলে এ ঘটনা জম্ম হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ছাড় পায়নি হামলায় অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে তাদের সনাক্ত করে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

বিতর্কিতদের ছাড় দেয়নি আওয়ামী লীগ:

দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বিদায়ী বছর আপাতদৃষ্টিতে ভালোভাবে পার করলেও কয়েক মন্ত্রী ও কিছু সংসদ সদস্যর বিতর্কিত কর্মকান্ডে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে দল ও সরকার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে মন্তব্য করায়  খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আদালত অবমানার ও শপথ ভঙ্গ করার রায় দিয়েছিল আদালত।  রায়ে আদালত তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা বিদায়ী বছরে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর সংসদ পদ থাকা না থাকা নিয়ে সারা বছর আলোচনা চলে। ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় দুটি ধারায় ১০ বছর ও সাত বছর কারাদ- হয় নিজাম হাজারীর, যা আপিলেও বহাল থাকে। গত ২২ নভেম্বর নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদ থাকা নিয়ে আদালত রায় দেন। যদিও বিচারকরা বিভক্ত রায় ঘোষণা করেন। কক্সবাজার-৪ আসনের সাংসদ আবদুর রহমান বদিকে দুর্নীতির দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। যদিও সে জামিনে বেরিয়ে এসেছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে আওয়ামী লীগ ছিল সরব:

নির্বাচনী ইশতেহারে একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির ধারা অব্যহত রাখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ বছরও যুদ্ধাপরাধ ইস্যু কোনো আপোষ করেনি দলটি। চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে হত্যার দায়ে বিদায়ী বছরের ৩ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হয়। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ১০ মে দলটির আমীর মতিউর রহমান নিজামী, গেল বছর ২২ নভেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, একই বছর ১৫ এপ্রিল জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করে আওয়ামী লীগ সরকার। এর আগে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসি কার্যকর করা হয় জামায়াতের আরেক নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের এ প্রতীক্ষিত বিচার শুরু করে।

নাসিক নির্বাচন,এ এক নতুন আওয়ামী লীগ:

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই প্রথম সিটি কর্পোরেশন মেয়র পদের ভোটগ্রহণ দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়।নাসিক নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সফলতা-ব্যর্থতা সরাসরি দলের ওপরই বর্তাবে বলে এতে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দেয় আওয়ামী লীগ। ফলশ্রুতিতে  ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হয়। এটি ছিল আওয়ামী লীগের বিজয়ের অন্যতম কারণ। নাসিকের বড় ইতিবাচক দিক হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের ‘সাপে-নেউলে’র সম্পর্কটাকে মিটিয়ে দিয়ে সেলিনা হায়াত আইভি রহমান ও শমীম ওসমান এক চেয়ারে বসেছেন।

তবে নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আইভি রহমানের জন্য সুপারিশ করেনি তৃণমূল আওয়ামী লীগ। সাংসদ শামীম ওসমান ‘নিয়ন্ত্রীত’ তৃণমূল সুপারিশ করেছিল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নাম চূড়ান্ত করেছে। সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুযায়ী আনোয়ার হোসেনের পাশাপাশি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি মুজিবুর রহমান ও বন্দর থানা সভাপতি আব্দুর রশিদকে মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করা হয়।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ও যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ড. দিপু মনি আইভির নাম প্রস্তাব করলে সভাপতি শেখ হাসিনা তাতে সায় দেয়। সেই সাথে নাসিক নির্বাচনে দলীয় কোন্দল নিরসনে শামীম ওসমান ও আইভিকে নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে দলীয় সিদ্ধান্ত মনে নিতে ঐক্যমত হয়েছেন সবাই। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা এ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে  দিন রাত কাজ করেন।এছাড়া আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও মাঠে নামানো হয়।

নির্বাচনে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশে সব প্রতিদ্বন্দ্বিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের সাধারন জনগন ও সুশীল প্রতিনিধিরাও নির্বাচনী এমন পরিবেশের প্রশংসা করেন। স্মরনীয় এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভি ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনকে পরাজিত করে। এ নির্বাচন আওয়ামী লীগের ইমেজকে বেশ শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।

বির্তর্কিত তবে সুষ্ঠু ছিল জেলা পরিষদ নির্বাচন:

এছাড়া ২৮ ডিসেম্বর  জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত না হলেও এই নির্বাচনে দল থেকে প্রার্থীদের সমর্থন ও নাম ঘোষণা করে আওয়ামী  লীগ । প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড একাধিক বৈঠক করে ৬১ জেলায় চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। নির্বাচনে ১০ বিদ্রোহী ও ৪ স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় বছরের শেষ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো।

বছরের শেষ হিসেবটা টানলে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন। এ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটা চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করছেন দলটির নেতাদের অনেকে। তবে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ও আওয়ামী লীগের ওপর সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারা বজায় রাখার চাপ বেড়ে গেছে। মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে সরকার চাইলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। পাশাপাশি দলীয় রাজনীতিতে কী ধরনের নেতাদের এগিয়ে নিতে হবে আর কাদের দূরে রাখতে হবে—সেই শিক্ষাও দিয়েছে এই নির্বাচন।

ব্রেকিংনিউজ/ আইএ/ এমআর

আপডেট: শনিবার ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৬ দুপুর ০২:০৯:৪০