শুক্রবার ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৬ বিকাল ০৪:০৭:১৭

১০ টাকার চাল: পাচ্ছেন না ভিক্ষুক

ছাদকেুল ইসলাম রুবেল, জেলা প্রতিনিধি, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

১০ টাকার চাল: পাচ্ছেন না ভিক্ষুক

গাইবান্ধা: বৃদ্ধা বিধবা দুই নারী। ভিক্ষা করেই অন্ন জোগাড় করেন। বয়সের ভারে তাও ঠিক মতো করতে পারছেন না। অথচ তারাই পাচ্ছেন না সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ‘১০ টাকার চাল’। বলছিলাম গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের বাসিন্দা সমস্ত ভান বেওয়া (৮০) ও ফুলমতি বেওয়া (৭০)। এমন পরিস্থিতিতে অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

ফুলমতি বেওয়া জানান, প্রায় দুই যুগ আগে লাল মিয়া ও ফুল মিয়া নামে দু’টি ছেলে সন্তান রেখে তার স্বামী মারা যান। লাল মিয়া বিয়ে করে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকে। আর  ফুলমিয়া মনোহারী ব্যবসা করে। দুই সন্তান থাকলেও তারা বিধবা মায়ের খোঁজ নেন না। বাধ্য হয়ে তিনি গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি কার্ডের কোনটাই হামরা (আমরা) পাই না। আর কত বয়স হলে ভাতার কার্ড পাইমো (পাবো)। তিনি আরও জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড (খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড) দিছোলো (দিয়েছিল)। একবার চাউল (চাল) পাছুনু (পেয়েছিলাম)। পরে সংশোধন করার কথা বলে ডিলার এমিল সাদেকিন কার্ডটি নেন। এরপর কার্ড আর ফিরে দেননি, চাউল (চাল) আর পামনি(পাইনাই)।

অপরদিকে সমস্ত ভানের স্বামী প্রায় আড়াই যুগ আগে ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে মারা যান। মেয়ে চারটির বিয়ে হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে জীবিকার তাগিদে কাজ করে। ছেলের নাম নবির হোসেন। তিনি জয়পুরের কাউনিয়াতে বিয়ে করে সেখানে ঘরজামাতা হিসেবে থাকে। ৫ সন্তান থাকলেও তারা কেউ মায়ের খোঁজ নেন না।

সমস্ত ভান বলেন, ‘হামরা গরীব, ভিক্ষা করে বাঁচি আছি, তাই আওয়ামী লীগের নেতারা হামাক একটা ১০ টাকা কেজির চাউলের (চালের) কার্ড দিছুলো। এক কোটা চাউল বাছুনু। পরে সে কার্ড টিও ডিলারে নিছে। চাউল আর পামনি’।

উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম জানান, দলীয় বরাদ্দ থেকে বিধবা ফুলমতি বেওয়াকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি ওই কার্ডের চাল পাচ্ছেন কি না তা তার জানা নেই।

কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনোয়ার আলম সরকার ওই দুই বিধবা চাল না পাওয়ার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

তিনি জানান, তার কাছে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলমসহ দলীয় লোকজন ডিলারর এমিল সাদেকিনের যোগসাজসে এলাকার দুঃস্থ অসহায়দের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড দেখিয়ে চাল আত্মসাৎ করছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল জলিল মণ্ডল জানান, অনিয়মের কারণে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ওই ইউনিয়নের সমস্ত কার্ড বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কার্ডগুলো যাচাই-বাছাই করে আগামি ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করা হবে। এরপর কোন অনিয়ম হলে, তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল আলম জানান, অনিয়মের দায়ে ডিলার এমিল সাদেকিনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। এখন তিনি পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি ওই দুই বয়স্ক ভিক্ষুকের প্রসঙ্গে বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/এআর

আপডেট: শুক্রবার ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৬ বিকাল ০৪:০৭:১৭