বৃহঃস্পতিবার ২৯শে ডিসেম্বর ২০১৬ বিকাল ০৩:৩৪:২৩

বাংলাদেশে পর্ন সাইট বন্ধ করা সম্ভব কি?

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

বাংলাদেশে পর্ন সাইট বন্ধ করা সম্ভব কি?

ঢাকা: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক গতকাল বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি প্রায় ৫শ’ পর্ন সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

পর্ন সাইট বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের পরই এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। সাধারণ মানুষ বিশেষত কিশোর-তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিষয়টি বেশি আলোড়ন তুলে। অতীতে ফেসবুক বন্ধ করার পর ওই সময়গুলোতে গোটা দেশেই মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেছে। তবে বিকল্প পন্থায়। প্রক্সি ব্রাউজার ব্যবহার করে। এবারও কি পর্ন সাইটে প্রবেশ করতে এ ধরনের বিকল্প ব্রাউজার ব্যবহার করা হবে।

সেটা যাই হোক, তবে পর্ন সাইট বন্ধ হওয়ায় দেশের এক শ্রেণির মানুষ ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছে। তাই তারা বিষয়টির পক্ষে নয়। তবে ওয়েব সাইট যাচাইয়ের একটি কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতেই সরকার এমন নির্দেশ দিয়েছে বলে বিটিআরসি জানিয়েছে।

তবে বিটিআরসি বলছে, তারা তিন পর্যায়ে পর্ন সাইট বন্ধ করতে চাইছে। তারাও চাইছে পশ্চিমা বিশ্বে পর্ন সাইটগুলো কম বয়সীদের হাতে যেনো না যায় সেজন্য যেমন অনেক পদক্ষেপ রয়েছে তেমনই বাংলাদেশ সরকারও পর্যায়ভিত্তিক পর্ন সাইটগুলো বন্ধ করতে চাইছে।

আমরা যদি ভারতের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো- গত বছরের ৩০ জুলাই ভারত সরকার ইন্টারন্টে সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) সংগঠনকে পর্ন সাইট বন্ধের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ১ আগস্ট ৮৫৭টি সাইট ব্লক করে দেয় বন্ধ করে দেয় আইএসপি। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের মুখ্য বিচারপতি এইচ এল দাত্তু এক রায়ে বলেন, নিজের বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে বসে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের পর্নগ্রাফি দেখার মৌলিক অধিকার রয়েছে। এরপরেও কেন নিষেধাজ্ঞা? পরে প্রায় ৭০০টি পর্ন সাইটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় দেশটির টেলিকম মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র শিশু পর্নোগ্রাফি ও ব্লু ফিল্মের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি আছে।

তবে কি শুধুমাত্র কিশোর-কিশোরী বা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের পর্ন দেখা থেকে বিরত রাখতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বিটিআরসি! সেক্ষেত্রে ভারতের মতো বাংলাদেশেও কি একসময় শুধু শিশু পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ হবে!

তবে তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন- বাংলাদেশে কি আদৌ পর্ন সাইট বন্ধ করা সম্ভব?

তরুণ প্রজন্মের সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয় উল্লেখ করে এরই মধ্যে একটি তালিকা বাংলাদেশের বিভিন্ন ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত সাইটগুলোর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত পর্ন সাইটগুলোই বেশি।

তবে কয়েকটি বিদেশি সাইটও তালিকায় রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এসব পর্ন সাইট বন্ধ করা কতটা সম্ভব? বিকল্প ব্রাউজার ব্যবহার করে পর্ন সাইট চালু রাখলে খুব বেশি কিছু করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে ধারণা তাদের।

বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষেই পর্ন সাইট বন্ধ করা সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনিভার্সিটি অব ডাবলিনের গবেষক নাসিম মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশে যে পদ্ধতিতে পর্ন সাইটগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেটা খুব একটা কাজে দেবে না। তালিকা ধরে বন্ধ করা কোন কাজ দেবে না। কারণ অন্য নামে আবার চলে আসবে। পরিবর্তন করতে হবে ব্যবহারকারীদের তরফ থেকেই। কোন কোন ক্ষেত্রে কিছু ডিভাইস ব্যবহার করে সুফল পাওয়া যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের তুলনায় পর্ন সাইটের ব্যবহার অনেক বেশি। সে কারণে পর্নগ্রাফির পেছনেই ব্যান্ডউইথের বিরাট একটা অংশ চলে যাচ্ছে।’

নাসিম মাহমুদ বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কিছু সাইটের ইউআরএল বন্ধ করে পর্ণ সাইট খুব একটা বন্ধ করা যাবে না। এভাবে ফিল্টারিং করে বেশি দুর এগুনো যাবে না। বিকল্প পথে বন্ধ করে দেয়া সাইটগুলোতে প্রবেশ করা সম্ভব হতে পারে।’

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাজাহান মাহমুদ বলেছেন, ‘গেটওয়েতে ওয়েবসাইট ব্লক করা, ইউজার লেবেলে আইএসপিগুলো চেষ্টা করছে আর মোবাইল অপারেটরগুলোকে বলা হয়েছে যাতে কেউ ফোনে না পায়। তবে প্রক্সি সার্ভারের মাধ্যমে কেউ পর্ণ সাইটে প্রবেশ করলে বিষয়টি মনিটরিংয়ে রাখা হবে।’

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তারানা হালিম দেশি-বিদেশি ৫০০ পর্ন সাইট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এ সংক্রান্ত একটি তালিকা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)’র মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠানোর পর পরই বিকেল ৩টার দিকে দেশি-বিদেশি ৫০০ পর্ন সাইট বন্ধ করা হয়েছে বলে জানায় বিটিআরসি।

ব্রেকিংনিউজ/ এমআর

আপডেট: বৃহঃস্পতিবার ২৯শে ডিসেম্বর ২০১৬ বিকাল ০৫:৪৬:৩৮