বুধবার ২৮শে ডিসেম্বর ২০১৬ সন্ধ্যা ০৬:৪৮:৪৬

উপকূলীয় এলাকায় বাড়ছে বাঁশ চাষ

এস আই মুকুল, জেলা প্রতিনিধি, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

উপকূলীয় এলাকায় বাড়ছে বাঁশ চাষ

ভোলা: অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝুঁকি মোকাবিলা, কার্বন শোষণ, নদী ভাঙন রোধ, পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন কারণে উপকূলীয় এলাকায় বৃদ্ধি পাচ্ছে বাঁশের চাষ। এ লক্ষ্যে দেশের উপকূলীয় এলাকার বসতবাড়িতে বাঁশের বংশবিস্তার ও চাষ পদ্ধতি শুরু করা হয়েছে কয়েক বছর আগে থেকেই। উপকূলীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ জায়গায় লবণাক্ততার প্রভাব থাকায় এখন পর্যন্ত বাইজ্জা বাঁশ ও বরাক বাঁশের চাষ উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

তবে ভোলার উপকূলীয় এলাকার জন্য বাইজ্জা বাঁশ চাষ বেশি উপযুক্ত বলে জানিয়েছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই দু’টি বাঁশের গবেষণার মধ্য দিয়ে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন বসতবাড়ীতে এ বাঁশ লাগানোর জন্য চাষিদের উদ্বুদ্ব করা হয়। দেওয়া হয় কঞ্চিকলম পদ্ধতিতে প্রায় ১৫ হাজার বাঁশের চারা।

২০১০ সালে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের সার্ভে অনুযায়ী ভোলার চর কুকরি-মুকরিতে ২০৫টি বাড়িতে সার্ভে করে ৫টি বাঁশঝাড় পাওয়া যায়। সেখানে এই গবেষণার ফলে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৬৭৮ বসতবাড়িতে চারা বিতরণ করা হয়। যার প্রেক্ষিতে এখন ভোলায় ৯৫ ভাগ চারা সফল ভাবে বেড়ে উঠছে।

এসব বিষয়ে চর কুকরী-মুকরী বন বিট কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাঁশ খুবই দ্রুত বর্ধনশীল উদ্ভিদ। আধুনিক পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ কারণে উপকূলীয় এলাকায় দিন দিন বাড়ছে বাঁশের চাষ। এছাড়া বাঁশ অন্যান্য উদ্ভিদের চেয়ে বেশি কার্বন শোষণ করতে পারে, মাটি আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে, পশু-পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবেও পরিচিত এই বাঁশঝাড়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর কঞ্চি কলমের মাধ্যমে চাষ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ ঝাড় পাওয়া যায়। পাশাপাশি কঞ্চি কলমের চাষ পদ্ধতিতে খরচও কম।

চর কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম মহাজন জানান, এই চরে গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি। এখানকার মানুষ কৃষি আর নদীর ওপর নির্ভরশীল। তাই বনের পাশে ও চরাঞ্চলে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষের বাড়িঘর নির্মাণ, কৃষি, যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সেক্টরসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং সৌখিন দ্রবাদি তৈরির কাজে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির বাঁশ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এক কথায় জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের জীবনে বাঁশের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এমএইচ

আপডেট: বুধবার ২৮শে ডিসেম্বর ২০১৬ সন্ধ্যা ০৬:৫৬:০৯