মঙ্গলবার ২৭শে ডিসেম্বর ২০১৬ সন্ধ্যা ০৬:১৩:৫৪

দ্রুত এগোচ্ছে ১২ নৌপথের খনন কাজ

তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

দ্রুত এগোচ্ছে ১২ নৌপথের খনন কাজ

ঢাকা: নদীমাতৃক বাংলার প্রাণ হলো নদী। এই নদী কেন্দ্রীক আবর্তিত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। কিন্তু ড্রেজিং বা নদী খননের অভাবে মরে যাচ্ছে অনেক নদী এবং নৌ রুট বা পথের। এসব পথ সচল করার জন্য দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ১২টি নৌ রুট খননের কাজ। ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টন পলি। যা মোট কাজের ৪৯ শতাংশ।

আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকল্প অফিস সূত্র জানায়, গুরৃত্বপূর্ণ ১২টি নৌ রুটের মধ্যে ইতোমধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৫টি (৩৪২ কিলেমিটার)নৌপথ খনন, চলমান রয়েছে ৫টি এবং সম্প্রতি কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে দুটি নৌ রুটের ড্রেজিং এর জন্য। ১২ রুটের ৬ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টন (প্রতি ঘন মিটার সমান ১ দশমকি ৯৫ টন হিসেবে) পলির মধ্যে অপসারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টন পলি। এখনো বাকি রয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার টন পলি। বাকি পলিও ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে অপসারণ করতে হবে।

বিআইডব্লিউটি এর প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) আব্দুল মতিন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, প্রতি বছর আমাদের বিভিন্ন নৌ রুটে বিশাল পরিমাণ পলি জমে এসব নৌ রুট ভরাট হয়ে নৌ চালচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ কারণে ২০১১ সালের অক্টোবরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি নৌ রুটের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য ৫০৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে অনুমতি দেয় পরিকল্পনা কমিশন। প্রথমদিকে ড্রেজিং খবু একটা না এগোলেও এখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এভাবে কাজের গতি থাকলে ২০১৮ সালের আগেই আমরা ১২ নৌ রুটের কাজ শেষ করতে পারবো। এখন পর্যন্ত ৪৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে কাজ করছি। এ কাজ এখানেই শেষ নয়। এসব নৌ রুট সারা বছর চালু রাখার জন্য নাব্যতা উন্নয়নের জন্য ড্রেজিং (ম্যান্টেনেন্স) করার প্রয়োজন হবে।

১২টি নৌরুট খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ তারিকুল হাসান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের চলমান ৫টি নৌ পথ খননের জন্য সরকারি ও বেসরকারি মিলে বর্তমানে ১১টি ড্রেজার কাজ করছে। আগামী বছরের শুরুতে আরও ৩টি ড্রেজার ড্রেজিং কাজ শুরু করবে।

বর্তমানে কাজ চলছে ৫টি নৌ পথে। এগুলোর হলো-

ঢাকা-তালতলা-জহুরি-জাজিরা-মাদারিপুর-কবিরাজপুর-চৌধুরী হাট/পেয়াজখালী-চারজানাজাত-/কাওড়াকান্দি (বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, ইছামতি, তালতলা খাল, দুবালদিয়া নালা, আড়িয়াল খাঁ, পদ্মা এবং ময়নাকাটা নদী) এর দুরত্ব হলো ১৮৭ কিলোমিটার। এটি চলমান রয়েছে।

সদরঘাট-বিরুলিয়া (নদী হলো তুরাগ) এর দৈর্ঘ্য ৩৫ কিলোমিটার।

ডেমরা-ঘোড়াশাল-পলাশ-টোককটিয়াদি (নদী শীতলক্ষ্যা) এ নৌ রুটের দুরত্ব হলো ১০৫ কিলোমিটার।

নারায়ণগঞ্জ-দাউদকান্দি (নদী শীতলক্ষ্যা, মেঘনা এবং গোমতি) এ নৌ রুটের দুরত্ব ৪০ কিলোমিটার।

ঢাকা শুরেশ্বর–আঙ্গারিয়া মাদারীপুর (মইশ্বের চর) নদীগুলো হলো- (পদ্মা, নড়িয়াখাল, পালং ও আড়িয়াল খাঁ) এ নৌ রুটের দৈর্ঘ্য হলো ১৪০ কিলোমিটার।

কাজ শেষ হওয়া নৌ রুটগুলো হলো-

লাহারহাট-ভেদুরিয়া (নদী হলো আড়িয়াল খাঁ ওতেঁতুলিয়া) নৌ রুটের দুরত্ব হলো ২৫ কিলোমিটার।

সাহেবের হাট-টুঙ্গীবাড়ী-লাহারহাট ( তেঁতুলিয়া, বুখাইনগর নালা) নৌরুটের দুরত্ব ৩০ কিলোমিটার।

পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী (নদী যমুনা) এর নৌরুটের দুরত্ব ৪৫ কিলোমিটার। ঢাকা-রামচর-মাদারীপুর (আড়িয়াল খাঁ নদ)এ নৌরুটের দুরত্ব ১২২ কিলোসিটার।

চাঁদপুর-নন্দিরবাজার-শিকারপুর-হুলারহাট (নদীগুলো হলো ডাকাতিয়া, আড়িয়াল খাঁ, টেংরাখালী নালা, শিকারপুর নালা, উজিরপুর খাল, সন্ধ্যা ওস্বরুপকাঠি খাল) এ নৌ রুটের দুরত্ব ১২০ কিলোমিটার।

কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে দুটি রুটের। এগুলো হলো- ঢাকা-শরীয়তপুর (পদ্মা এবং পালাং নদী) এ নৌ রুটের দুরত্ব হলো ১০০ কিলোমিটার। অপরটি হুলারহাট-চরচাপালী-গোপালগঞ্জ (নদীগুলো হলো কালীগঙ্গা, শৈলদাহ/গাঘর এবং মধুমতি) এ নৌ রুটের দুরত্ব ৭১ কিলোমিটার।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/টিআইএস/এসআই

আপডেট: মঙ্গলবার ২৭শে ডিসেম্বর ২০১৬ সন্ধ্যা ০৭:১৭:৫১