শনিবার ১৭ই ডিসেম্বর ২০১৬ দুপুর ০২:০৮:৫৯

সুশিক্ষার মাধ্যমে স্বপ্নপূরণে কাজ করছে ড্রিম ডিভাইজার: ফাতিহা তাসনীম

সোহাগ অপূর্ব, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

সুশিক্ষার মাধ্যমে স্বপ্নপূরণে কাজ করছে ড্রিম ডিভাইজার: ফাতিহা তাসনীম

ফাতিহা তাসনীম ডাক নাম তিশা। সুশিক্ষার মধ্য দিয়ে সবার স্বপ্নপূরণের প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিম ডিভাইজার’ এর কো-ফাউন্ডার। বর্তমানে প্লাটফর্মটির সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এছাড়াও শিশুদের গণিত শেখানোর বিশ্বসেরা পাঠ-পদ্ধতি ALOHA Method-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টার ALOHA Bangladesh-এর প্রধান কার্যালয়ে যুক্ত আছেন পুল-টিচার হিসেবে। যদিও পুল-টিচারের পাশাপাশি এখানে মানব সম্পদ বিভাগ (এইচ আর) সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অফিস ওয়ার্কের সঙ্গেও যুক্ত আছেন ফাতিহা তাসনীম

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে অনার্স—মাস্টার্স শেষ করেছেন। তবে তাঁর ইচ্ছা আজীবন পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া। মাস্টার্স শেষ করতে না করতেই দেশ-বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুঁ মারছেন, খোঁজ খবর নিচ্ছেন সমাজ-উন্নয়ন, ব্যবসায় প্রশাসন তথা অর্থনীতি সম্পর্কিত বিষয়ে মাস্টার্স-এমফিল এবং পিএইচডি করার। স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেইনার এবং মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেকে শানিত করার জন্য নিয়মিত অংশ নেন জাতীয়-আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রশিক্ষণ পর্বে। এদিকে, পড়াশুনার পাশাপাশি শৈশবের দুরন্তপনা কেটেছে ঢাকার প্রসিদ্ধ মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলে। এরপর কলেজের কৈশোরের সময়টা কাটান দেশের আরেক ঐতিহ্যবাহী কলেজ হলিক্রস কলেজে। স্কুল থেকেই নিজেকে জড়িত রেখেছেন সংস্কৃতির নানা অঙ্গনে। গানের দীক্ষা নিয়েছেন দেশের সেরা ধ্রুপদি প্রতিষ্ঠান ছায়ানট থেকে।  স্কুল-কলেজে বিতর্কসহ সাইন্স ফিকশনের নানা পর্বে অসংখ্যবার জাতীয় প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এক্সট্রা কারিকুলা অ্যাকটিভিটিজে সাফল্য পেয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছেন বার বার। অন্যদিকে, খেলাধুলায়ও কম যান না তিনি। কলেজকে রিপ্রেজেন্ট করতে বহু জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেট হিসেবে অংশ নেন ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। তবে স্পোর্টিং মনোভাব সম্পন্ন তিশার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা স্বেচ্ছাশ্রমের স্কুল ‘তারা স্কুল’-এ ঘরের কাজের মেয়ে/ নারী (বুয়া)-দের শিক্ষায় আলোকিত করার মধ্য দিয়ে। নিয়েছেন বুটিক-কুটির এবং হস্তশিল্প সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ। আর এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ তাঁকে নিয়ে গেছে ভিন্ন মাত্রায়।

আর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নিজের গন্ডিকে বিকশিত করতে জড়িত ছিলেন ডিপার্টমেন্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কালচারাল টিমে। সর্বদা হাস্যোজ্জল তিশার মানবিক অবস্থানের সুখ্যাতি রয়েছে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী, আত্মীয়-স্বজনের কাছে। সবার প্রিয়মুখ হিসেবে, তাই অনেকের কাছেই তিনি পরিচিত ‘মাদার তিশা’ নামে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- সোহাগ অপূর্ব

আমরা তরুণনা বর্তমানে যারা স্কুল-কলেজে পড়ছিতাদের মাঝে ড্রিম ডিভাইজার প্লাটফর্মটি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচিত হচ্ছেআপনাদের  প্লাটফর্মটি নিয়ে যদি একটু বলতেন-

ড্রিম ডিভাইজার মূলতঃ সুশিক্ষার মাধ্যমে স্বপ্নপূরণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমানে ক্যারিয়ার এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের স্লোগান হচ্ছে- Developing Quality with Morality.

সবাই যেখানে শিক্ষা নিয়ে কথা বলেনকাজ করেনসবার জন্য শিক্ষার কথা বলেনসেখানে আপনারা ‘সুশিক্ষা’ নিয়ে ভাবছেনবিষয়টি একটু পরিস্কার করবেন কী?

বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মানে সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীরাও ভালো মন-মানসিকতার পরিচয় দিতে পারছে না। সেক্ষেত্রে কিভাবে পড়ালেখার পাশাপাশি প্রত্যেককে উন্নত মন-মানসিকতার অধিকারী হতে পারেন; সেজন্যই আমাদের এমন প্রচেষ্টা।

 ড্রিম ডিভাইজার এখন কি কি কাজ করছে-

শুরু থেকে‌ই ড্রিম ডিভাইজার নিয়মিত ৩টি আয়োজন অব্যাহত রেখেছে। একটি হচ্ছে- Playing, আরেকটি- Knowing এবং অন্যটি- Training।

বিস্তারিত বলতে গেলে- প্রথমত- প্লেয়িং বা খেলাধুলার মাধ্যমে আমরা ড্রিম ডিভাইজারে যুক্ত হওয়া সবার মন-শরীর রিফ্রেশ বা সজীব রাখতে এটা করে থাকি। দ্বিতীয়ত- নোয়িং বা জানাশুনা বাড়াতে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ড্রিম ডিভাইজার এর সবাই প্রতি মাসে একটি ভালো বই পড়ার চেষ্টা করি। যদিও বর্তমানে ড্রিম ডিভাইজারের সব টিমমেটরা বেশিরভাগ-ই শিক্ষার্থী হওয়ায়, প্রতিনিয়ত নানা ধরণের বই পাঠ, একাডমিক পড়ালেখা এবং ড্রিম ডিভাইজারের নিজস্ব ও অন্যান্য প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ায়; নিয়মিত বইপাঠ ব্যক্তির  নিজস্ব রুটিনে সঠিকভাবে চলছে। তৃতীয়ত- ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ; এ প্রোগ্রামটি-ই আমাদের আড্ডা উইথ আইকন

আপনাদের প্রতি মাসের ADDA with ICON নিয়ে বিস্তারিত যদি বলতেন-

ড্রিম ডিভাইজারের এ ADDA-টি প্রতিমাসের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শেষ শুক্রবার; কখনো কখনো শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। যে কেউ এখানে অংশ নিতে পারেন। যদিও ADDA with ICON-এ মূলত যারা ড্রিম ডিভাইজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তারাই অংশ নিতে পারবেন; এমন চিন্তা থেকেই শুরু। কিন্তু বর্তমানে অন্যান্যরাও অংশ নিতে পারেন। অংশ নেয়া সবাইকে পরিশ্রমী এবং উন্নত মন-মানসিকতা, কর্মঠ এবং বিশেষ করে সফল মানুষদের সাথে মিশে নিজেকে উৎসাহিত করার জন্যই এমন আড্ডার ব্যবস্থা।

ড্রিম ডিভাইজারের ADDA with ICON-এ কি করা হয়-


এখানে প্রতিমাসে একটা ক্ষেত্র/ বিষয়ের অভিজ্ঞ হিসেবে একজন আইকনিক পারসন আসেন। এবং তিনি আড্ডাচ্ছলে তার জ্ঞান-অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করেন।  বর্তমানে, মূলতঃ আমরা তরুণ এবং সৃষ্টিশীল এবং ভিন্নধর্মী কাজে যুক্ত, তাঁদের আইকন হিসেবে আমন্ত্রণ করে থাকি।

আমরা জানিআপনারা সম্প্রতি স্কুলে Energizing Education with Entertainment’ মানে ‘ট্রিপল-’ নামে একটি আয়োজন শুরু করেছেন-

হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। আমরা সম্প্রতি খুবই সফলভাবে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বপ্নপূরণে উদ্বুদ্ধ করতে স্কুল ‍শিক্ষার্থীদের সাথে আড্ডা সম্পন্ন করেছি। যেখানে আমাদের স্কুল টিমের সবাই বেশ ভালো করেছে। ইতিবাচক এ আড্ডা শেষে, অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের আপ্লুত মন-ই অবশ্য ড্রিম ডিভাইজারের সফলতা ও সার্থকতা নির্দেশ করেছে।

আপনাদের কারযক্রম অনলাইনে কতটুকু প্রসীদ্ধ, বা এই পজিটিভ প্রশিক্ষণ  প্রক্রিয়া অনলাইনে কিভাবে আপনারা মানুষের কাছে পৌঁছে দিবেন?

আমাদের ইউটিউবে চ্যানলে রয়েছে। এখানে আমরা একসাথে কিছু ভিন্নধর্মী কাজ উপস্থাপন করবো। ইনশাল্লাহ, অল্প সময়ের মধ্যেই  ইউটিউবে আমাদের এক্টিভিটিস দেখে আপ্লুত হবেন।

আপনাদের টিমমেট প্রত্যেকের স্বপ্ন-সাধনা এবং ড্রিম ডিভাইজার নিয়ে ভাবনা কী-

আমাদের টিমমেটদের সবাই বড় বড় স্বপ্ন নিয়ে এগুচ্ছি। নিজেদের প্রোডাকটিভিটি প্লানিং বানিয়ে সবাই তৈরি হচ্ছি নিয়মিত। কেননা আমাদের কথাই হচ্ছে- ‘স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই; পূরণ করি, পূরণ করাই’। এছাড়াও- আমরা বলি- ‘আগে নিজে শিখবো, এরপর অন্যদের শেখাবো’। আমরা কথার চেয়ে কাজকে  এবং অবশ্যই পড়াশুনার পাশাপাশি জানাশোনাটা বাড়ানোর দিকে বেশী গুরুত্ব দেবো।

কোন উপলক্ষবিষয় বা কাদেরকে বেইস ধরে Dream Deviser-কে প্রতিষ্ঠা করলেন বা সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন?

আমরা আসলে সবাইকে নিয়েই কাজ করছি। বিষয়টি এমন না যে- আমরা একটি বয়সকে রিপ্রেজেন্ট করছি। মূলত আমরা সব বয়সের মানুষের সুশিক্ষা এবং স্বপ্নপূরণকে সমান গুরুত্ব দিয়েই সামনে এগুচ্ছি।

কিন্তু আপনাদের কাজ দেখলে মনে হয়আপনারা তারুণ্য নিয়ে সামনে এগুচ্ছেন বা বেশী কথা বলছেন-

বিষয়টি এমন মনে হলেও তেমনটা মোটেও নয়। আমরা শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক সবার জন্যই আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষাকে এনে দিতে কাজ করে যাচ্ছি।

আর- তারুণ্যকে আমরা বয়সের ফ্রেমে বাঁধছি না। কারণ- আমরা বিশ্বাস করি, মনের দিক থেকে যে তরুণ, সে-ই স্বপ্ন দেখে এবং সে-ই স্বপ্নবাজ। আর প্রত্যেকের এমন স্বপ্ন নিয়েই আমাদের কাজ। আমাদের বিশ্বাস- যে বা যিনি স্বপ্ন দেখতে পারেন এবং সর্বদা স্বপ্নকে উপলব্ধি করতে পারেন, তাঁর স্বপ্ন পূরণ হবে-ই।

তবে হ্যাঁ; মনের দিক থেকে আমরা যেনো তরুণ হতে পারি সেজন্য Dream Deviser কাজ করছে।

আপনাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য  স্বপ্ন কি?

‘সুশিক্ষা’ এবং ‘স্বপ্নপূরণ’ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক ব্রান্ড তৈরি করা।

এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসিআপনাদের মতোএমন হাজারো অরগানাইজেশন এমন কাজ করছেতাদের থেকে আপনাদের আলাদা বা বিশেষত্ব কি?

প্রথম পার্থক্য হলো- আমরা শুধু কোয়ালিটি ডেভেলপ করার কথাই বলছি না; একইসাথে মোরালিটি ডেভেলপ করার কথা বলছি। দ্বিতীয়তঃ আমরা আগে শিখি, তারপর অন্যদের শিখাই। তৃতীয়তঃ আমরা নিজেদের স্বপ্ন আগে পূরণ করি; তারপর অন্যদের স্বপ্নপূরন করতে সাহায্য করি।  চতুর্থতঃ আমরা সময়কে অতীব গুরুত্বের সাথে দেখি। আমরা সব সময় নিজেদের সব প্রোগ্রাম এবং অনুষ্ঠান যথাসময়ে শুরু করে দেই। আমাদের এখানে বাংলা টাইম বা ইংলিশ টাইম বলে কোনো কথা নেই।  এখানে টাইম মানে জাস্ট টাইম; ১০টা মানে ১০টা। আলহামদুলিল্লাহ- এটা আমরা শুরু থেকে, এখনও অব্যাহত রাখতে পেরেছি; সামনেও এ ধারা গুরুত্বে সঙ্গে চলমান থাকবে। পঞ্চমতঃ শুধু কথায় বিশ্বাসী না হয়ে, কাজে বিশ্বাসী হওয়াও অন্যদের থেকে আমাদের   বড় পার্থক্য। ষষ্ঠতঃ আমরা পুরস্কার, প্রকাশ আর প্রচারে নয়; সমাজে নিজেদের কাজ দ্বারা ইতিবাচক প্রভাব প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।

আপনারা নিজেদের কতটুকু সফল দাবি করেন?

প্রত্যেকটি আয়োজন ডিজাইন করা থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত সব সময় নজর দেই; সামান্যতম হলেও সমাজে পজিটিভ কোনো প্রভাব পড়ছে কি’না। এটা হতে পারে আয়োজক হিসেবে, আবার হতে পারে যাদের জন্য বা যাদের নিয়ে আয়োজন, তাদের থেকেও। সো- কেবল ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানেও আমরা যে কাজটি-ই করি, সর্বদা কতটুকু সফল হলাম, এটা চিন্তা না করে আয়োজনটি কতটুকু সার্থক হলো সেটি হিসেবে নেয়ার চেষ্টা করি।

দেশের পাশাপাশি বিদেশেরও কী আপনাদের কাজের অভিজ্ঞতা এবং পরিকল্পনা রয়েছে?

আমরা এখন দেশে-ই সর্বোচ্চ মেধাটাকে কাজে লাগাচ্ছি। তবে সময়-সুযোগ হলে, দেশের পাশাপাশি বিদেশে আমাদের কনটেন্ট এবং বিষয়গুলোকে নিয়ে যাবো। যদিও আমাদের টিমের অনেকেই ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে গেছে। আমাদের অনেকই বিভিন্ন বিদেশ ট্যুর-ওয়ার্কশপ এবং সেমিনারে আমন্ত্রন পাচ্ছে। তবে- নিজেকে এবং দেশকে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে যেতে নিরন্তর কাজ করছি আমরা।

বর্তমান কিশোর-তরুণদের মাঝে আপনারা কি কি সমস্যা দেখতে পানআর সমস্যা সমাধানে ড্রিম ডিভাইজার কি করছে?

এক্ষেত্রে আমরা তরুণ-কিশোরদের যারা ইতিবাচক কাজে জড়িত তাদের উদাহরণ দিয়ে উৎসাহিত করি। অন্যের সমস্যা বা সমালোচনা না করে আমরা প্রত্যেকের ভেতরকার সৌন্দর্য্যকে বের করে আনার চেষ্টা করি। আমরা কেবল ব্যক্তির উপর দোষ না দিয়ে, সামাজিক অবস্থা কতটা তাকে সমস্যা সমাধানে সহায়ক এবং সহযোগী মনোভাব দেখাতে পারে, সেটার উন্নয়নে কাজ করছি।

আমরা দেখি অনেকে টাকা বা সুযোগের অভাবেবহুজন খারাপ পথ বেছে নেয়তাঁদের জন্য আপনাদের পরামর্শ-

আসলে ড্রিম ডিভাইজার পরামর্শ দেয়ায়ও বিশ্বাসী না। তবে, এমনটা মনে হলে, আমরা তাঁকে বেশী বেশী ইতিবাচক কাজে উদ্বুদ্ধ করি। একসময় সে নিজেকে বুঝতে পেরে ভালো তো হয়-ই; এমনকি সমাজে উদাহরণও ক্রিয়েট করে।

যেমন- ক’দিন আগেই এক রিকশা চালক আমাকে ফোন করে এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষার জন্য দোয়া চাইলো। দেখুন আমার সাথে এই ছেলেটার পরিচয় ওর রিকশায় চড়ার মধ্য দিয়ে। একদিন ড্রিম ডিভাইজার ফাউন্ডার গোলাম রাব্বী এবং আমি ওর রিকশায় ক্যাম্পাসের কলাভবন থেকে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং-এ যাচ্ছি। আর  একটি কথা- আমরা আবার সবার কথা, জীবন এবং পেশা সংক্রান্ত বিষয়-আশায় খুব শুনি। তো- রিকশায় উঠেই ওর কথা শুনতে শুনতে, একপর্যায়ে ওর পড়ালেখার প্রতি আগ্রহের কথা জানতে পেরে, আমরা ওকে সহযোগিতা শুরু করি। এমনও হতে পারতো ও ভালো গাইডলাইন না পেলে হয়তো খারাপ পথে যেতেও পারতো। ইভেন ও রিকশাও না চালাতে পারতো। আবার দেখেন ও কিন্তু একটা ভালো কাজ করছে, বিধায়ই আমাদের সাথে ওর দেখা হলো। সো- ড্রিম ডিভাইজার সবসময় ভালো কাজে ও পড়ালেখায় সবাইকে  উৎসাহিত করার করে, সবার মধ্যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে চায়।

অনেক অভিবাবক কেবল ভালো রেজাল্ট চায়অনেকক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েরা নিজের পছন্দ পর্যন্ত বলতে বা বুঝাতে সাহস পায় নাএভাবেই অনেকের  ক্রিয়েটিভিটি এবং ভিন্নধর্মী কাজের আগ্রহ বিনষ্ট হচ্ছেএক্ষেত্রে ড্রিম ডিভাইজার কি করছে-

আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে। অন্যদেরকেও স্বপ্ন দেখার সাহস দিতে হবে। এর জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন তা অর্জনেও সুযোগ করে দিতে হবে। আমরা মনে করি- কেউ যদি স্বপ্নপূরণে একান্ত হয়, তাহলে স্বপ্ন পূরণ হবেই। দরকার কেবল ব্যক্তির স্বপ্ন দেখতে এবং  রাস্তায় টিকে থাকার সাহস যুগিয়ে যাওয়া। স্কুলে তাই আমরা- ‘নিজের স্বপ্নে বিভোর থাকা এবং নিজেকে নিজেই ইন্সপায়ার করার কথা জানাচ্ছি।

কোনটাকে আপনার গুরুত্ব দিচ্ছেনকেবল- অর্জননাকি সত্যিকার সফলতা?

এক্ষেত্রেও আমরা একটু ভিন্ন প্রকৃতিতে বিশ্বাসী। আমাদের কাছে সফলতা বলে কিছু নেই; ‘দক্ষতা অর্জন-ই বড় কথা’। যদি আপনি কোনো কাজে দক্ষ হন, তবে আপনার সফলতা এক সময় আসতে বাধ্য। দক্ষতা অর্জন না করে সফলতার পিছনে ছোটা মানে- ‘পাহাড়ে মরীচিকাকে পানি মনে করে ছুটে অযথা সময় এবং শ্রম নষ্ট করা’। আর একটি কথা- আমরা সফল না, সার্থক হওয়াতে বিশ্বাসী।

সবশেষে জানতে চাইড্রিম ডিভাইজার ইথিক্যাল  এবং ইতিবাচকতা অর্জনে কতটুকু এগিয়েছেন বলে মনে করেন?

হ্যাঁ; সবসময় আমরা ইথিক্যাল এবং ইতিবাচক। আমরা বিশ্বাস করি সফলতার জন্য ইতিবাচক মাইন্ডেড হওয়াটা খুব জরুরী। আর সফলতা অর্জনের পথে  তা ধরে রাখা, সাসটেইনেবল করা এবং সর্বোপরি মেন্টাল পিস প্রাপ্তির জন্য নৈতিক থাকাটা আরও বেশী দরকার।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এসএইচ

আপডেট: শনিবার ১৭ই ডিসেম্বর ২০১৬ দুপুর ০২:৩১:৪২