রবিবার ১১ই ডিসেম্বর ২০১৬ দুপুর ১২:৫৭:৪৮

গাছ ও বন জরিপ শুরু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

গাছ ও বন জরিপ শুরু

খুলনা: সুন্দরবনে উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে সারাদেশে দ্বিতীয় বারের মত গাছ ও বন জরিপ শুরু হয়েছে। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) এ কাজের উদ্বোধন করেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

সারাদেশের প্রায় ১ হাজার ৮৫৮ প্লটে এ জরিপ কাজ চালানো হবে। প্রথম বছরে সুন্দরবন ও দেশের উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় এ জরিপ কাজ চলবে। পরের বছর দেশের অন্যান্য স্থানেও এ জরিপ কাজ চলবে। এতে ব্যয় হবে আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সূত্র জানায়, বনজ সম্পদের সুরক্ষা, সর্বোত্তম ব্যবহার সুনিশ্চিত, বনের আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং বন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এ জরিপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বন অধিদপ্তর এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তাদের সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিসংস্থা (এফএও), ইউএসএআইডি এবং সিলভাকার্বন।

আগামী ২০১৮ সালে এ জরিপ কাজ শেষ হবে। এটিই প্রথম পরিপূর্ণ দেশের বনজসম্পদ জরিপ বা গবেষণা কার্যক্রম। এর আগে ২০০৫ সালে সারাদেশে এ ধরনের জপির কাজ চালানো হয়। তবে সেটি পূর্ণাঙ্গ জরিপ কাজ ছিল না।

প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ ইউনুস আলী ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ২০০৫-৭ সালে প্রথমবার দেশব্যাপী গাছ ও বনজ সম্পদের সমীক্ষা হয়েছিল। বৃক্ষ ও বনজ জরিপ ২০১৬ বাংলাদেশের জন্য প্রণীত নকশা অনুযায়ী মোট এক হাজার ৮৫৮টি নমুনা প্লট হতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। যার ৪২৯টি পাহাড়ী বনে, ১৪৫টি শালবনে, ১১৩টি উপকূলীয় বনায়ন এলাকায়, সুন্দরবনে ১৭৩টি এবং ৯৯৮টি সরকারি বন বহির্ভূত গ্রামীণ বন এলাকায় অবস্থিত।

জরিপের মাধ্যমে বনজ সম্পদের পরিমাণ, বনের আচ্ছাদন, বৃক্ষ প্রজাতি, কাঠ ও জ্বালানী কাঠের পরিমাণ, বনাঞ্চলের মজুদ কার্বন এবং বন থেকে প্রাপ্ত সুবিধাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ জরিপের কার্যক্রম জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি  মোকাবেলা এবং রেটপ্লাস পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে।

গাছ ও বনের সঠিক ব্যবস্থাপনা বন বিষয়ক দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন সূচক অর্জনে প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণের জন্য প্রতি ৫ বছর পরপর গাছ ও বন জরিপের প্রয়োজন বলেও তিনি মতামত দেন।

জরিপ কার্যক্রমের সদস্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লি­নের অধ্যাপক প্রফেসর ড. নাজমুস সাদাত জরিপ কাজ সম্পর্কে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মত এই বনজ সম্পদ জরিপ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন দাতাসংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বন বিভাগ। এই গবেষণার মাধ্যমে আমাদের প্রকৃত বনজ সম্পদ কতটুকু আছে সেটা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। সারাদেশের গ্রামীণ বনজ সম্পদের পরিমাণও জানা যাবে এই গবেষণায়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রকিবুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, এই জরিপ কার্যক্রমের প্রধান তিনটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, বনজসম্পদ চিহ্নিতকরণ, পাঁচ বছর পরে আবার গবেষণা করে দেখা বনে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে এবং এই পরিবর্তনে কি কি প্রভাব কাজ করেছে। এছাড়া কার্বন কতটুকু আছে। এই কার্বণ নিঃসরণের জন্য উন্নত বিশ্বের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করার জন্য চাপ দেয়া হবে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিসংস্থা (এফএও) চিফ টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার মেথিউ হেনরি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের বনজসম্পদ জরিপ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

সুন্দরবনের পাশে পশুর নদীর তীরে বিভিন্ন  ছোট-বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বনবিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ ইউনুস আলী ব্রেকিংনিউজকে জানান, এখনো এ ধরনের কোন জরিপ কাজ করা হয়নি। তবে জরিপ কাজ করা গেলে কোন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান কি ধরনের বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ করছে এবং তাতে কি ধরনের ক্ষতি হচ্ছে তা জানা যাবে। এর আগে ক্ষতির ব্যাপারে মন্তব্য করা যাবে না।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/এআর

আপডেট: রবিবার ১১ই ডিসেম্বর ২০১৬ দুপুর ১২:৫৭:৪৮