শনিবার ১০ই ডিসেম্বর ২০১৬ সকাল ১০:৪৪:৫৫

মহাশূন্যে ঝাড়ুদার পাঠালো জাপান (ভিডিও)

বিজ্ঞান ডেস্ক, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

মহাশূন্যে ঝাড়ুদার পাঠালো জাপান (ভিডিও)

ঢাকা: পৃথিবীর মহাকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শতকোটি আবর্জনা। খালি চোখে এসব আবর্জনা আমরা দেখতে পাই না। কিন্তু এসব আবর্জনা মানব সৃষ্ট। আর এজন্য ভবিষ্যতে মহাকাশে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। সেই দুর্ঘটনা রোধে ও মহাকাশ পরিষ্কার করতে জাপান শনিবার উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের টানেগাসিমা স্পেস সেন্টার থেকে মহাশূন্যে বিশেষ রকেট পাঠিয়েছে। রকেটে এমন এক নভোযান আছে যেটি মহাশূন্যে ঝাড়ুদারের কাজ করবে। অর্থাৎ এই নভোযান মহাশূন্যে ভাসমান রকেট ইঞ্জিনের ধ্বংসস্তূপ খুঁজে বের করে তা আগুনে পুড়িয়ে দেবে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন আইএসএস কিছু মালামাল সরবরাহ করা হবে এই রকেট দিয়ে।  খবর বিবিসির।

জাপানের তৈরি ৭০০ মিটার লম্বা এই রকেটের বৈশিষ্ট্য, এতে এমন একটি শিকল আছে যা মাছ ধরার জালের মত। জাপানের ফিশিং নেট কোম্পানি নিট্টও সিমো জাপান স্পেস এজেন্সির সঙ্গে মিলে এই জাল তৈরি করেছে। এটি অ্যালুমিনিয়ামর ও ইস্পাতের তৈরি। একে ইলেক্ট্রো ডাইনামিক জাল বলে। এর মধ্যে চৌম্বক শক্তি আছে। মহাকাশে এই জাল ধ্বংসস্তূপের মাঝে গেলে তা আকর্ষণ করে জালের ভেতর নিয়ে আসবে। পরে এই জাল থেকে এমন একটি শক্তি তৈরি হবে যা পৃথিবীর কক্ষ পথ থেকে ধ্বংসস্তূপগুলোকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে ঠেলে দেবে। এতে বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে ধ্বংসস্তূপ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ মহাকাশে রকেট প্রেরণ করছে। অনেকে উপগ্রহ বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছে। আর এসব করতে গিয়েই মহাকাশে জমা হতে থাকে রকেটের ধ্বংসস্তূপ। এসব ধ্বংসস্তূপ কোনও কোনোটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘণ্টায় ২৮ হাজার কিলোমিটার বেগে ঘুরছে। আর এগুলো নিয়ে চিন্তিত বিজ্ঞানীরা। যেকোনো সময় এসব ধ্বংসস্তূপ পৃথিবীর কোনও উপগ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ হতে পারে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে স্যাটেলাইট যোগাযোগ। আর এজন্য পৃথিবীর কক্ষপথ পরিষ্কার করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

গত ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে এসব আবর্জনা মহাশূন্যে ভাসছে।  ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাশূন্যে স্পুটনিক স্যাটেলাইট পাঠানোর পর থেকে মহাকাশে জমতে থাকে এসব আবর্জনা।


ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/এসডি    


আপডেট: শনিবার ১০ই ডিসেম্বর ২০১৬ সকাল ১০:৫৪:২৫