মঙ্গলবার ২৯শে নভেম্বর ২০১৬ ভোর ০৫:০৫:৪৬

নেই কলের গান, হুক্কাও বিলুপ্ত প্রায়

সাহিত্য-সংস্কৃতি ডেস্ক, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

নেই কলের গান, হুক্কাও বিলুপ্ত প্রায়

ঢাকা: গান শোনতে কে না ভালবাসে। গান হচ্ছে মনের খোরাক। গান শোনলে মন ভালো হয়ে যায়। বর্তমানে কম্পিউটার, মোবাইল ও এমপি থ্রি ইত্যাদির মাধ্যমে গান শোনা যায়। 

কিন্তু আজ থেকে বহুকাল আগে গান শোনার জন্য ছিলনা কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন এমনকি এমপি থ্রি প্লেয়ারের মত ডিভাইস। তখন গান শোনার জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল ‘গ্রামোফোন’ বা ‘কলের গান’। টমাস আলভা এডিসনের আবিষ্কার এ যন্ত্রটি এখন আর চোখে পড়ে না। বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্ট ফোন, আইফোন, ট্যাব আর এমপি থ্রি ও ফোরের চাপে বহুকাল পূর্বে কালের গর্ভে ঠাঁই নিয়েছে ‘কলের গান’। ষাট এমনকি সত্তর দশক পর্যন্তও এ দেশের অনেক বনেদি পরিবারেই বাজত গ্রামোফোন। 

তখন ‘হাওয়া মে উড়তা যায়ে মেরা লাল দোপাট্টা মল মল’, ‘চুপ চুপ খরে হো তো রূপ ওই বাত হেই’, ‘আমার সোনার ময়না পাখি’ প্রভৃতি বাংলা, হিন্দী ও উর্দু গান কলের গানে বাজত গ্রামের বিভিন্ন উৎসবে। কিন্তু বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে গ্রামোফোন বা কলের গান। নতুন প্রজন্মের কাছে এ যন্ত্রটি আজ শুধুই গল্প মাত্র।

গ্রামোফোনের জনক টমাস আলভা এডিসন ১৮৭৮ সালে কাঠের বাক্সের ওপর চোঙ্গা লাগানো যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন, যে বাক্সের মধ্যে গোলাকৃতির বস্তুর উপরে চাকতির মধ্যে পিন স্থাপন করে ঘোরালে তৈরি হয় শব্দ। তিনি যন্ত্রটির নাম দিলেন ‘ফনোগ্রাম’। ১০ বছর পর ১৮৮৮ সালে জার্মান বিজ্ঞানী বার্নিলার টিনফয়েল ফনোগ্রামকে কিছুটা মডিফাই করে নাম দেন ‘গ্রামোফোন’। এটিকে ঘিরে ১৮৯৮ সালে জার্মানিতে গড়ে ওঠে বিশ্বের প্রথম গ্রামোফোন প্রতিষ্ঠান। 

কলকাতায় ১৯০৮ সালে এশিয়ার প্রথম কলের গানের কারখানা স্থাপিত হয়। পরে যন্ত্রটি আরও উন্নত করা হয়। এর রেকর্ড ঘোরানোর জন্য ভেতরে স্থাপন করা হয় স্প্রিং। সঙ্গে থাকত ‘দ’ আকৃতির হ্যান্ডেল। স্প্রিংটি চেপে রেখে নরম কাপড় মোড়ানো গোলাকার চাকতির উপর রেকর্ড বসানোর পর সেটি ঘুরিয়ে পিনযুক্ত হ্যান্ডেলটি বসিয়ে দিলেই শুরু হতো গান। সত্তর দশকের প্রথমদিকেও ছিল রেকর্ডের প্রচলন।

পরে গ্রামোফোনের পরিবর্তে আসে ৪৫ আরপিএমের রেকর্ড প্লেয়ার। আশির দশক থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত তা আরও উন্নত হয়ে ছোট ফিতায় আসে টেপরেকর্ডার বা ক্যাসেট প্লেয়ার। তারপরই আসে ভিসিআর-ভিডিও। পর্যায়ক্রমে আসে কমপ্যাক্ট ডিস্ক (সিডি), ডিজিটাল ভিডিও ডিস্ক (ডিভিডি)।

আধুনিকতার দাপটে আজ এগুলোও ছিটকে পড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে মেমোরি কার্ড, আর মোবাইলের ভেতর সবকিছু ঢুকিয়ে দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা। ফলে ধীরে ধীরে আজ বিলীন পণ্যের তালিকায় উঠেছে ক্যাসেট প্লেয়ার, ভিসিআর, সিডি, ভিসিডি প্রভৃতি আধুনিক সরঞ্জাম।

হুক্কা পল্লী সংস্কৃতির প্রাচীন নিদর্শন। আবহমান কাল থেকে এ দেশের ধূমপায়ীরা হুক্কার মাধ্যামে তামাকপানের নেশায় অভ্যস্ত। তখন কুষ্টিয়া অঞ্চলে ধনী-দরিদ্র সবার বাড়িতেই ছিল হুক্কার প্রচলন। 

কিন্তু কালের আবর্তে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তামাক খাওয়ার মাধ্যমটি আজ হারিয়ে গেছে। গ্রামগঞ্জে অতিথিদের প্রধান আকর্ষণ ছিল হুক্কা। হুক্কা ছিল দুই রকম। নারিকেলের মালাইয়ের তৈরি হুক্কা আর পিতল বা রূপার তৈরি ডিজাইন করা হুক্কা। জমিদারদের ব্যবহৃত হুক্কার ধরনই ছিল আলাদা। নারিকেলের মালাইয়ের হুক্কার সঙ্গে থাকত কারু কাজে তৈরি কাঠের নল। তার উপরে বসানো হতো মাটির কলকে। এই কলকেতে তামাক সাজিয়ে তাতে দেয়া হতো আগুন। আর নারিকেলের মালাই ভর্তি থাকত পানি। 

হুক্কায় তামাক সাজিয়ে কয়েকজন মিলে হাতবদল করে তা টেনেছে। জমিদার ও সচ্ছল পরিবারে হুক্কা ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। বিত্তবান ও অভিজাত শ্রেণির মানুষেরা ব্যবহার করতেন পিতল বা রূপার তৈরি হুক্কা। আর নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত ধূমপায়ীরা ব্যবহার করতেন নারিকেলের হুক্কা।

ব্রেকিংনিউজ/এমএস

আপডেট: মঙ্গলবার ২৯শে নভেম্বর ২০১৬ দুপুর ০১:২৫:১০