শুক্রবার ১৮ই নভেম্বর ২০১৬ রাত ০৯:০১:৪৮

ইসি গঠন ও শক্তিশালীকরণে খালেদার ২০ প্রস্তাব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

ইসি গঠন ও শক্তিশালীকরণে খালেদার ২০ প্রস্তাব

ঢাকা: সকল রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন ও প্রতিষ্ঠানটি শক্তিশালীকরণে ২০টি প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিএনপি নেত্রী।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আগেরবারের মতো সার্চ কমিটি গঠনের কথা বলছেন ক্ষমতাসীনরা।

সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে ইসি গঠনের দাবি জানিয়ে সংবাদ খালেদা জিয়া বলেন, ‘সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অথবা স্বাধীনতার পর কোনো না কোনো সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আলোচনা করবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের যোগ্যতা, অযোগ্যতা ও মনোনয়নের প্রশ্নে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’

রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতেই একটি বাছাই কমিটি করবেন, প্রস্তাবনা জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৎ, নিরপেক্ষ, অভিজ্ঞ, নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের দ্বারা ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি করবেন।

‘বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিচারপতি (জ্যেষ্ঠতা ক্রমানুসারে) আর সদস্য হিসেবে থাকবেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত সৎ এবং দল নিরপেক্ষ একজন সচিব, (তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রী পরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোনো কর্মকর্তা বাছাই কমিটির সদস্য হতে পারবেন না), অবসরপ্রাপ্ত সৎ এবং দল নিরপেক্ষ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় দল নিরপেক্ষ একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য জ্যেষ্ঠ নারী। তারা প্রত্যেকেই থাকবেন বিতর্কের উর্ধ্বে এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোনো লাভজনক পদে ছিলেন না’, বলেন বিএনপি নেত্রী।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল বাছাই কমিটির সদস্য নিয়োগের জন্য প্রতি পদের বিপরীতে ২(দুই) জনের নাম ও পরিচয়সহ সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে পেশ করবে বলে প্রস্তাব রাখেন খালেদা জিয়া।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগের সুপারিশ করে এজন্য বেশ কিছু যোগ্যতার সুপারিশ করেন খালেদা জিয়া।

‘সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৎ, মেধাবী, দক্ষ, সাহসী, প্রাজ্ঞ এবং নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং সকল বিচারে দল-নিরপেক্ষ এবং বিতর্কিত নন এমন একজন ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে অধিষ্টিত ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, অথবা বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিব যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোনো লাভজনক পদে নিয়োজিত নহেন বা ছিলেন না, অথবা একজন বিশিষ্ট নাগরিক-প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারবেন’, বলেন তিনি।

তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রীপরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোনো কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না বলেও প্রস্তাব রাখেন বিএনপি প্রধান।

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যেসব যোগ্যতার সুপারিশ করেছে খালেদা জিয়া এর মধ্যে রয়েছে-

একজন নারীসহ সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সৎ, মেধাবী, দক্ষ, প্রাজ্ঞ, সাহসী, নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও সকল বিচারে দল নিরপেক্ষ এবং বিতর্কিত নহেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে হতে চারজন নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হতে পারবেন।

ন্যূনপক্ষে জেলা জজের মর্যাদা সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ন্যূনপক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদা সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, ন্যূনপক্ষে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষাবিদ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য হতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রতি পদের বিপরীতে ২(দুই) জনের নাম ও পরিচয়সহ সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে পেশ করবেন। বাছাই কমিটি এই সকল নাম হতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য ২ (দুই) জন এবং নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮ (আট) জন এইভাবে মোট ১০(দশ) জনের নাম বাছাই করবে। এই প্রক্রিয়ায় বাছাই কমিটি প্রথম প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করবে এবং তাদের মধ্যে যেসব ব্যক্তির নাম সব রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবনায় অভিন্ন রয়েছে তাদের নাম রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণের জন্য চূড়ান্ত করবে।  

তিনি বলেন, ‘এইভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য ২ (দুই) জন এবং নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮(আট) জন অভিন্ন পাওয়া না গেলে বাছাই কমিটি সকল রাজনৈতিক দলের সাথে প্রয়োজন বারবার আলোচনা করবে।

বিএনপি প্রধান তার প্রস্তাবনায় বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ২ (দুই) জনের মধ্যে হতে ১ (এক) জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বাছাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ৮ (আট) জনের মধ্য হতে ৪ (চার) জনকে নির্বাচন কমিশনার পদে চূড়ান্ত করবেন।’

তিনি বলেন, ‘বাছাইকৃত ২ জনই অসম্মতি প্রকাশ করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নের জন্য একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে নতুন করে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।’

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/এম/এসআই

আপডেট: শুক্রবার ১৮ই নভেম্বর ২০১৬ রাত ০৯:০১:৪৮