শুক্রবার ১৮ই নভেম্বর ২০১৬ বিকাল ০৩:১১:৫৩

নোট বদলে কেন ক্ষুব্ধ ভারতের বিরোধী রাজনীতি

সুমন দত্ত

নোট বদলে কেন ক্ষুব্ধ ভারতের বিরোধী রাজনীতি

ঢাকা: ভারতে ৫০০ ও ১০০০ হাজার টাকার নোট বদলের সিদ্ধান্তে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ দিনকে দিন বাড়ছেই। গত ৮ নভেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই ধরনের নোট বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই ভারতীয় রাজনীতির চালচিত্র পাল্টে যায়। পশ্চিমবঙ্গের  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যিনি ছিলেন কট্টর সিপিএম বিরোধী। রাতারাতি ভোল পাল্টে এই ইস্যুতে তিনি হয়ে যান সিপিএম লাভার। নোট বদলের ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের ডাক দেন তিনি। তার এই ডাকে কমরেডরাও সাড়া দেন জোরেশোরে। কারণ এতে যে কমরেড দাদাদেরও সমস্যা। ৩০ বছর কমরেড দাদাদের বঙ্গ লুটপাট করার কালো টাকা যে এখনো তাদের ভোল্টে জমা আছে।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ কেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে নোট বাতিলের বিরুদ্ধে এক হয়ে মোদী সরকারের সমালোচনা করছেন। এর বড় কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোকে নেপথ্যে থেকে যেসব কালো টাকার মালিকরা চালান তাদের সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে।  কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না। এই রাজনৈতিক দলগুলো কদিন আগেও ছিল কালো টাকার বিরুদ্ধে সোচ্চার। মোদী কেন বিদেশের ব্যাংকে ভারতীয়দের গচ্ছিত টাকা দেশে ফিরিয়ে আনছেন না। কেন দেশের কালো টাকার মালিকদের গ্রেফতার করছেন না  এসব নিয়ে তারা মোদীর সমালোচনা করতেন। অনেককে বলতে শোনা গেছে দেশের কালো টাকার মালিকদের কেন ছাড় দিচ্ছেন মোদী।  রাত দিন এসব নিয়ে মোদীর সমালোচনা করতেন রাহুল গান্ধির মত কংগ্রেসি নেতারা। আজ যখন কালো টাকার বিরুদ্ধে মোদী যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই তারা আজ মোদীর ওপর ক্ষুব্ধ। পারলে মোদীর বিরুদ্ধে এক হাত নেন।

ভারতে ব্যাপক মাত্রায় কালো টাকা ছড়িয়ে আছে। এটা বিভিন্ন জরিপে ও গবেষণায় পাওয়া গেছে। এসব কালো টাকা সন্ত্রাসে ব্যবহার হয়। মাদক ও পণ্য পাচারেও ব্যবহার হয়। সন্ত্রাসে যে কালো টাকা ব্যবহার হচ্ছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে। অশান্ত জম্মু-কাশ্মীরে নোট বদলের ঘোষণার পর থেকে পাথর নিক্ষেপকারীদের কর্মকাণ্ড বন্ধ। তাদের কাউকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গিরা রাজ্যের তরুনদের ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট দিয়ে পুলিশকে পাথর মারার জন্য উসকানি দিত, তাদের হাত এখন মোদীর এক ঘোষণায় ফাকা। গত এক সপ্তাহে কাশ্মীরে পুলিশকে পাথর নিক্ষেপের একটি ঘটনাও ঘটেনি।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার। হঠাৎ ঘোষণা দিয়ে মুদ্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত এই প্রথম নয়। এর আগেও একই ঘটনা মনমোহন সিং সরকারের সময় ঘটেছিল। সেবার  ৫০ পয়সার মুদ্রা ঘোষণা দিয়ে বাতিল করে মনমোহন সরকার। তখন কিন্তু এ নিয়ে কোনও হৈ চৈ হয়নি। আজ হচ্ছে , এর কারণ অনেকগুলো তবে বড় যে কারণ গুলো মোটা দাগে দেখা যাচ্ছে সেগুলো হচ্ছে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোতে কালো টাকার অর্থায়ন।

ভারতের কালো টাকার মালিক তারাই যারা কারি কারি টাকা ব্যাংকের হিসাবে না রেখে নিজেদের বাসভবনে ও গুপ্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে। আয়কর ফাঁকি দিতেই এসব করে কালোটাকার মালিকরা। সাধারণ লোক বাসা বাড়িতে কারি কারি টাকা রাখে না। তাই নোট বাতিলে তাদের সমস্যা হবার কথা নয়। সমস্যা হবার কথা যারা কালো টাকা জমিয়ে রাখে। এখন তারাই পড়ছে বিপদে। কারণ জমানো কালো টাকা ব্যাংকে নিয়ে গেলে প্রশ্ন উঠবে এই টাকাগুলোর উৎস কি। আর তাতেই কালো টাকার মালিকদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যাবে। আর এতে শাস্তিতো ভয়ানক। মান সম্মান ক্ষমতা সবই যাবে এতে। সাধারণ মানুষের হাতে মাসের শেষেই সরকারি টাকা আসে। আর সেই টাকা ভেঙে ভেঙে খরচ করেন তারা। সেই হিসেবে অল্প পরিমাণ টাকা বদল কোনও বিষয়ই না। সরকার আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাকা বদলের সুযোগ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পুরানো নোট বদল করে নতুন নোট নেয়া কোনও ব্যাপারই না। কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বন্ধ করার জোর আবেদন জানাচ্ছে।

 আর এতে অগ্রণী ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। চিট ফাণ্ডের অভিযোগে মমতা সরকার আগেই সবার কাছে সমালোচিত। এই চিটফাণ্ডের টাকা সিপিএম, তৃণমূলের নেতাদের  প্রত্যেকের পেটেই আছে। কালো টাকা হিসেবেই সেগুলো আছে। এখন মোদীর ঘোষণায় সারদা কেলেঙ্কারির নায়কদের টাকা, নারদ কেলেঙ্কারির নায়কদের টাকা সব যে হাওয়া হয়ে গেল। যক্ষের ধনের মত যেই টাকা পাহারা দিলাম। এখন যে সব যায় যায়। 

এভাবে বিহারের লালু ও নীতিশের মদ বেচার ও অপহরণ বানিজ্যের কালো টাকা, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়ালের  বিদেশি সংস্থা থেকে এনজিওর নামে পাওয়া কালো টাকা, উত্তর প্রদেশে মুলায়েম সরকারের কালো টাকা, সবই যে ধ্বংসের পথে। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এদের ক্ষোভ যে অন্য যেকারোর চাইতে বেশি। অথচ এসব রাজনৈতিক দলের এমনটা করার কথা ছিল না। দেশের ভেতর কালো টাকার মালিকদের ধরার এই উত্তম পন্থার প্রশংসাই করা উচিত ছিল তাদের।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/এসডি 

আপডেট: শনিবার ১৯শে নভেম্বর ২০১৬ সন্ধ্যা ০৬:৪৩:৪৩